সীমানা জটিলতায় আটকে আছে ঝুঁকিপূর্ণ ২ সেতু

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৯, ০০:০০

আব্দুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

ডেমরা ও রূপগঞ্জের ঝুঁকিপূর্ণ দুটি সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে পণ্যবাহী যানবাহনসহ স্থানিয় বাসিন্দারা। ডিএসসিসির ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের এবং রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ও ডেমরার ঠুলঠুলিয়া গ্রামের ওই সেতু দুটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় অধিবাসীরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় বাসিন্দারা এ বিষয়ে নানা প্রশ্নও তুলছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নির্মিত এ দুটি সেতুর উভয় পাশের গার্ডারে বেশ কয়েক বছর ধরেই মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠুলঠুলিয়া সেতুর দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে, এমনকি একপাশের রেলিং একবারেই নেই। শুধু রডগুলো কোনোমতে ঝুলে আছে। আরেক পাশেরও অর্ধেক রেলিং নেই। হালকা-ভারি কোনো যান উঠলেই সেতু দুটি কাঁপতে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। এ অবস্থার মধ্যেও বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চলাচল করছে ওই সেতু দুটি দিয়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বালু নদের তীরে অসংখ্য দোকানে তেল সরবরাহকারী লরির নিত্যদিনের যাতায়াতের কারণে ব্রিজ দুটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অনেক আগে থেকে ওই সেতু দুটিতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

কায়েতপাড়ার বাউলের বাজার মন্দির সংলগ্ন ও ঠুলঠুলিয়া খালের ওপর ওই দুটি সেতু অন্তত ২০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। তাই যে কোনো সময় ব্রিজ দুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিটি কর্পোরেশনসহ এলাকাবাসী। শিগগির সেতু দুটির পুননির্মাণ জরুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিএসসিসির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এ এলাকা ছিল ডেমরা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। তাই বিষয়গুলো দেখত তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল কর্তৃপক্ষ। এ সেতু দুটি নিয়ে সাবেক ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে লিখিত আবেদনসহ ছবি পাঠালেও কোনো কাজ হয়নি।

ঠুলঠুলিয়া সেতুর ২০০ গজ পশ্চিমে বিকল্প হিসেবে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণ করা আছে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় নতুন সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সেখানেও এ বিষয়ে লিখিত আবেদনসহ ছবি পাঠানো হয়েছে।

তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে পর্যবেক্ষণ শেষে এখানকার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে শুধু ঠুলঠুলিয়া সেতুটি রয়েছে। কায়েতপাড়া সেতুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এলাকাবাসী বলছেন, কায়েতপাড়া হয়ে ঠুলঠুলিয়া আসতে হয় বলে ওই সেতুটির পুননির্মাণ করা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ঠুলঠুলিয়া সেতুটি পুননির্মাণ হবে জেনে এ বিষয়ে ৭০নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ইতিমধ্যে ডেমরায় সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সহকারী প্রকৌশলী (খিলগাঁও অঞ্চল-২) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ডেমরায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে শুধু ঠুলঠুলিয়া সেতুটি রয়েছে বলে দ্রুত এটির কাজ শুরু করা হবে। তবে কায়েতপাড়া বাউলের বাজার সেতুটির বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে সে ক্ষেত্রে ভিন্ন বিষয় হতে পারে।

 

"