নিরাপদ আম উৎপাদন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

ক্ষতিকর কেমিক্যাল প্রয়োগের অভিযোগ টানা কয়েক বছর লোকসান ঘোঁচাতে ফ্রুট ব্যাগ পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীরা। কয়েক বছর আগে থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হলেও এবার অধিকাংশই চাষী তা বাস্তবায়ন করছেন। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ‘শতভাগ নিরাপদ’ হবে বলে জানিয়েছেন চাষীসহ আম সংশ্লিষ্টরা। এতে ভাল দাম পাওয়ার আশা করেন তারা। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১২ কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে জানিয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। তাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার আম বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের যুগ্ম-সম্পাদক ইসমাঈল খান শামিম জানান, সঠিক মান পরীক্ষা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে কেমিক্যালের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজার হাজার মন আম রাস্তায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আম উৎপাদন করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন চাষীরা। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন আমেই কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। শুধু ছোট আমে পোকামাকড় দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সার ও বিষ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। তার দাবি, বর্তমান সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি বাগানের উৎপাদিত আম বিদেশে রফতানিযোগ্য ও শতভাগ নিরাপদ।

একই কথা জানান ‘চাঁপাই ম্যাংগো’র ব্যবস্থাপক শহিদুল হক হায়দারী। তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে আম রফতানি করতে ফ্রুট ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে আম পুষ্ট করে তোলা হচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি ভিাগের নজরদারি বাড়ার কারণে আম চাষীরা কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও চলতি মৌসুমে নায্যমূল্য পেলে নিরাপদ আম উৎপাদনে আগ্রহ হবে। তিনি বলেন, আম ভাঙার পর গাড়িতে তোলার আগে তল্লাশি করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম আমিনুজ্জামান বলেন, জেলার সিংহভাগ আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। আমের মুকুল থেকে শুরু করে আম বাজারজাত হওয়া পর্যন্ত কৃষি বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিরাপদ আম উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষীরা ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহার করে নিরাপদ আম উৎপাদন করছে। তার দাবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

"