১ কিলোমিটারে ১৫ ড্রেজার

ডাকাতিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৫টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা। উপজেলার বাংগড্ডা ইউপির হেসিয়ারা, নুরপুর, বেরী ও দাড়াচৌ গ্রামের নদী অংশে এক মাস ধরে এই বালু উত্তোলন চলছে। এরইমধ্যে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে নদীর পাড়ের বসত বাড়ি, কবরস্থান, পুকুর ও গ্রামীন সড়ক। অনানুমোদিত ভাবে উত্তোলিত এই বালু আশেপাশের ফসলী জমি ও পুকুর-ডোবা ভরাট এবং বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলছেন না কেউ।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ বিধি ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সেতু-কালভার্ট, সড়ক, রেল লাইন, সরকারি-রেসরকারি স্থাপনাসহ আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে বিপণনের উদ্দেশ্যে ড্রেজিং করা যাবে না। সেই সঙ্গে ড্রেজিংয়ের ফলে কোন নদীর তীর ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে এরূপ ক্ষেত্রেও বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করে আইন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক মাস ধরে ডাকাতিয়া নদীতে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৫টি ড্রেজারে বালু তোলা হচ্ছে। এদের কারোই অনুমোদন নেই বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে আছে চলন কলেজের প্রভাষক ও আওয়ামীলীগ নেতা আশিকুর রহমান, নুরপুর গ্রামের ইউনুস, স্থানীয় মেম্বার জসিম ও হাজারীপাড়া গ্রামের রবিউল। এর মধ্যে ৪টি ড্রেজারের বালু বিক্রি করছেন প্রভাষক আশিকুর।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের শাস্তির বিধি ১৫/১ ধারায় বলা আছে, আইন দ্বারা নিষিদ্ধ এলাকার নির্দেশনা অমান্যকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী ব্যক্তিবর্গকে অনূর্ধ্ব ২ বছর কারাদ- ভোগ করবে। সেই সঙ্গে সর্বনি¤œ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে বিধান রয়েছে। এমনি আইন অমান্যকারীদের সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও এই শাস্তির আওতায় পরবে।

নাম প্রকাশ না কার শর্তে নদীর পাড়ে বসবাসরত কয়েক জন লোক জানান, ‘যে ভাবে প্রভাবশালীরা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছেন আগামী কিছু দিনের ভিতরে ওই নদীর পাড়ের বাড়ি ঘর ড্রেজারের গর্তে গিয়ে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে। আমরা ভয়ে কোনো কথা বলতেছি না। বলে তাদের হুমকি দমকি দেয় তারা।’

জানতে চাইলে কলেজের প্রভাষক আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুর রহমানের মুঠোফোনে বার বার কল করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অপর ড্রেজার মালিক নুরপুর গ্রামের ইউনুস বলেন, ডাকাতিয় নদীর এ অংশে আমাদের জায়গা থেকে বালু তুলতেছি। কে কি বলো তা জানার দরকার নাই।

নাঙ্গলকোট সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহেল রানা জানান, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

"