মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পাঁচ বছরে কোনো কাজে আসেনি এক্স-রে মেশিন

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি পাঁচ বছর যাবত বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা।

৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ২০০-২৫০ রোগী স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুন মেশিনটি হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এরপর তার আর কারো কাজে আসেনি। এমনকি কোনো রোগী এখনো এক্সরে মেশিনের সুবিধা পায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে পাঁচবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানালেও অধ্যবদি পর্যন্ত চালু হয়নি। অর্থাৎ পাঁচ বছর যাবত এক্সরে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে।

টরকী থেকে আসা হোসনেয়ারা বেগম (৫২) জানায়, এক্সরে মেশিন চালু থাকলে কম টাকায় এক্স-রে করানো যেতো। মেশিন না থাকায় বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে ৪০০-৫০০ টাকায় এক্সরে করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন রোগীরা সরকারি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের জরুরীভাবে প্রয়োজন জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি)। তিনি জানান, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া) পদটি ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারি থেকে অধ্যাবদি পর্যন্ত শূন্য। এছাড়া জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) পদটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শূন্য রয়েছে। ওই দুটি পদে চিকিৎসক থাকলে আমাদের হাসপাতালেই গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া যেতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার সাহা বলেন, এক্স-রে মেশিন সচল হওয়ার জন্য ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছরই লিখি। কোনো কাজ হয় না। তবে এটি মেরামত করেও কোনো লাভ হবে না। তিনি বলেন আমাদের চিকিৎসক সংকট রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই এক্সরে মেশিন মেরামত করলেও চলবেনা। আমরা নতুন মেশিনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

 

 

"