ঠাকুরগাঁও ও পীরগাছা

বৈশাখী ঝড়ে ফসলি জমিসহ লন্ডভন্ড কয়েকশ বাড়িঘর

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে ল-ভ- হয়ে গেছে একটি গ্রাম। অন্যদিকে রংপুরে পীরগাছা উপজেলায় টর্নেডোর আঘাতে ফসলি জমিসহ ২০ গ্রামের প্রায় ২০০ বাড়ি-ঘর ল-ভ- কয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে ল-ভ- হয়ে গেছে একটি গ্রাম। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার শুকানপুকুরী ইউনিয়নের বাংরোড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে গ্রামের ১৮টি পরিবারের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাংরোড গ্রামের ভেঙে পড়ে আছে শতাধিক ঘরবাড়ি। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে বিভিন্ন ফসল।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ করে বাংরোড গ্রামে আকস্মিক ভাবে ঝড় আঘাত হানে। ৪ থেকে ৫ মিনিট ধরে স্থায়ী ছিল এই ঝড়টি। এই অল্প সময়ের মধ্যে এ গ্রামের ১৮টি পরিবারের প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নূর হক, খেলাফত, কান্দরু, শফিকুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, আব্দুল করিম, আব্দুর রহিম, অনিল চন্দ্র, সুধির ঘোষ, ঋষিকান্তের ঘরবাড়ি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই প্রচ- বেগে ঝড় আঘাত হানে। মাত্র কয়েক মিনিটেই সবলন্ডভন্ড হয়ে গেছে। প্রায় একই কথা বলেন গ্রামের ঋষিকান্ত রায়।

ক্ষতিগ্রস্ত অনিল চন্দ্র বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। হঠাৎ ঝড়ের কারণে বাংরোড গ্রামে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে তার ধারণা।

শুখানপুকুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে বাংরোড গ্রামে ১৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এরমধ্যে ১০টি পরিবার একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত চাল দেয়া হবে; পরে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।

পীরগাছা (রংপুর) : রংপুরের পীরগাছায় টর্নেডো ও শিলা বৃষ্টির আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ২০টি গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়িসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, নষ্ট হয়েছে শাক-সবজি, কলা, ভুট্টার ক্ষেত। এছাড়াও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও অর্ধশত স্থানে তার ছিঁড়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো আঘাত হানে। সকাল থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, ইউএনও জেসমিন প্রধান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ ক্ষতিগ্রস্থ্য গ্রামগুলো পরিদর্শন করেন। সরকারি ভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে উপজেলার পীরগাছা, কৈকুড়ী, পারুল, কান্দিসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে টর্নেডো ও শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। এতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় অনন্তরাম বড়বাড়ি, উচাপাড়া, বড় পানসিয়া দোলাপাড়া, তালুক ইসাদ, কুমারপাড়া, চন্ডিপুর, পারুলের মনুরছড়া, মহিষমুড়ি, ত্রিপুর, সুন্দর, সেচাকান্দি, কৈকুড়ীর রামচন্দ্রপাড়া, চালুনিয়া, দিলালপাড়া, আলাদিপাড়া, কান্দির চাপড়া, হরিদেবসহ ২০ গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। উপজেলার ১০ হেক্টর জমির পাকা ধান, ২ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত, ২ হেক্টর কলা ক্ষেত, ৫ হেক্টর জমির শাকসবজির ক্ষেতসহ কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে প্রায় ২০টি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও অর্ধশত স্থানে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।

পীরগাছা ইউনিয়নের অনন্তরাম বড়বাড়ি গ্রামের আবুল কাশের ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার ভোরে হঠাৎ টর্নেডো আঘাত হানলে তার নিজের ঘরসহ ওই গ্রামের অনেকের ঘরবাড়ির চালা উড়িয়ে গেছে। বড় পানসিয়া গ্রামের ময়নুল ইসলাম জানান, তার ঘরের উপর একটি বড় গাছ পড়ে গেছে। এতে তার দুটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি নিজেও পরিবারসহ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানের একটি বড় গাছ পড়ে গিয়ে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পীরগাছা যোনাল অফিসের এজিএম (কম) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, টর্নেডোর আঘাতে পীরগাছা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। এছাড়া ৪০-৫০টি স্পটে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে পাকা ধানসহ পাট, ভুট্টা, কলাসহ রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ শুরু করা হয়েছে।

 

"