মাদারীপুর মহাসড়ক

ক্রসিং-গতিরোধক না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুর শহরের উপর চলে যাওয়া মহাসড়ক ও সড়কগুলোতে জেব্রা ক্রসিং নেই বললেই চলে। যাও আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। নেই গতিরোধের তেমন ব্যবস্থা। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক, মহাসড়ক পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ পথচারী। এতে প্রতিনিয়িত দুর্ঘটনায় প্রাণহানী ঘটছে। বেসরকারি উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি গত ৫ বছরে মাদারীপুরে প্রায় অর্ধশত লোক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তবে সরকারীভাবে এর সংখ্যা জানা যায়নি।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের পানিছত্র এলাকায় কার্গো ট্রাকের চাকায় পিষ্ঠ হন আলজাবির হাই স্কুল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আমীর হামজা (৩২)। স্থানীয়দের অভিযোগ, গতিরোধক ব্যবস্থা ও জেব্রা ক্রসিং না থাকায় সড়ক দুঘর্টনার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন মুয়াজ্জিন আমীর হামজা।

মাদারীপুর শহরের উপর দিয়ে চলে গেছে খুলনা-মাদারীপুর-শরীয়তপুর-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মহাসড়কটি শহরের ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয়েছে। গতিশীল যান চলাচলে সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে মূল্যবান প্রাণ ঝড়ে পড়লেও নেওয়া হয়নি তেমন প্রতিরোধক ব্যবস্থা।

জেলার ট্রাফিক বিভাগ বলছে, এটি পৌর সভার দায়িত্ব, আবার পৌরসভা বলছে সড়ক ও জনপদের দায়িত্ব। সমস্যার সমাধান না করে একে অপরের ওপর দায় চাপাতে ব্যস্ত তারা।

শহরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহরের কলেজ রোড মোড়, নিরাময় (প্রা.) হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, প্রেসক্লাব, বটতলা মোড়, মিলন সিনেমা সড়ক, সরকারি সুফিয়া মহিলা কলেজ, দরগাহ শরীফ কুলপদ্দি চৌরাস্তা মোড়, পানিছত্র, চিলডেন গ্রেস স্কুল মোড়, মাদারীপুর সদর থানার মোড়, ইটেরপুল তরমুগরিয়া বালুঘাটসহ জনবহুল এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোর সামনে প্রয়োজন জেব্রাক্রসিং। এছাড়া পুরান বাজার, চরমুগরিয়া বাজার, টার্মিনালসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারপুর মাদারীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টেনিসক্লাবসহ কিছু সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও জনবহুল এলাকায় গতিরোধক থাকলে তাতে শুধু সাদা রং দেওয়া। শহরের সরকারি ডনোভান বালিকা বিদ্যালয়, মাদারীপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারী নাজিউদ্দিন কলেজ চরমুগরিয়া কলেজ শহরের খ্যাতনামা চিলডেন গ্রেস স্কুলসহ অধিকাংশ স্কুল কলেজের সামনে নেই গতিরোধক ও জেব্রাক্রসিং। জনসমাগমের এলাকাগুলোতেও জেব্রা ক্রসিং, গতিরোধক, ফুটওভার ব্রিজের কোনোটাই নেই। আর যেসব আছে তাপ্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই পথচারীদের এলোমেলোভাবে যানবাহনের ফাঁকে ঝুঁকি নিয়েই সড়ক পারাপার হতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মাদারীপুরে জেব্রা ক্রসিং নেই বললেই চলে। ৩-৪টি জায়গায় আছে। মাদারীপুর পৌরসভা ও সড়ক বিভাগ চিহ্নিত করবে কোথায় হবে জেব্রা ক্রসিং। রঙও তারাই করবে। তারা সে মোতাবেক কাজ করবে। এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কিছু নেই।

মাদারীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, জনসাধারণের নিরাপদে চলাচলের জন্য জেব্রাক্রসিং খুবই দরকার। ভৌগলিকভাবে মাদারীপুর এখন বড় শহরে পরিণত হচ্ছে, সেহেতু ট্রাফিক সাইন বোর্ডও দরকার। বড় বড় রাস্তায় এটা বেশি দরকার। এগুলো সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায়, বিধায় জেব্রাক্রসিং, গতিরোধকসহ অন্য বিষয়গুলো তারাই দেখবে। এ বিষয়ে পৌরসভার তেমন কিছু করার থাকে না। পৌরসভার আওতাধীন রাস্তাগুলোতে প্রয়োজন বোধে স্থানীয় কাউন্সিলরের সুপারিশের মাধ্যমে জেব্রাক্রসিংপ্র দেওয়া হয়। শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, শহরের মাদারীপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মাদারীপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারী নাজিম উদ্দিন কলেজ পাশাপাশি, তাই এখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ অতীব জরুরি। সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। তবে জনবল স্বল্পতার কারণে করতে পারছেন না।

জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, খুলনা থেকে মাদারীপুর শহরের উপর দিয়ে যে মহাসড়কটি চট্টগ্রাম চলে গেছে, মূলত এ মহাসড়কের কিছু স্থানে জেব্রাক্রসিং ও গতিরোধক ব্যবস্থা আছে। আরো জেব্রাক্রসিংও গতিরোধক ব্যবস্থা দরকার। তবে ফুটওভার ব্রিজ আপাতত তেমন দরকার নাই বলে মন্তব্য করে এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকতা অনুসারে ফুটওয়ার ব্রিজ হতে পারে। এ মুহূর্তে অনাকাক্সিক্ষত সড়ক দুঘর্টনারোধে যেসব স্থানে জরুরিভিত্তিতে দরকার যথাশীঘ্রই সেখানে জেব্রাক্রসিং এবং গতিরোধকের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

"