পাইকগাছায় পোনার দামে ধস, হুমকিতে চিংড়ি চাষ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ০০:০০

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

সাদা স্বর্ণ খ্যাত বাগদা চিংড়ির দাম নিম্নমুখী হওয়ায় খুলনার পাইকগাছায় চিংড়ি চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। গত দুই থেকে তিন বছরে খরচ বাদে উৎপাদন খরচ না উঠায় অধিকাংশ চিংড়িচাষিরা হতাশায় ভুগছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চিংড়ি রফতানি খাতটি বন্ধের উপক্রম হবে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। এ খাত থেকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। বেকার হয়ে পড়বে শত শত পরিবার।

জানা গেছে, পাইগাছা উপজেলাটি লবণ পানির সাদা স্বর্ণ চিংড়ি চাষ অধ্যুষিত এলাকা। ৮০-এর দশক থেকে ধান চাষের পাশাপাশি চিংড়ি চাষ শুরু করেন কৃষকরা। যার থেকে সরকার প্রতি বছর আয় করছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বাগদা চিংড়ির দাম মারাত্মকভাবে দরপতন হওয়ায় খাতটি হুমকির মুখে পড়েছে।

কয়েক বছর আগে চিংড়ির গ্রেড হিসাবে বাজার দাম ছিল কেজিপ্রতি ২০ গ্রেড ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, ৩০ গ্রেড হাজার থেকে ১২০০ টাকা, ৪০ গ্রেড ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ৫০ গ্রেড ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, সর্বনিম্ন ছিল সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। গত তিন বছর ধরে পুশ করার অজুহাতে চিংড়ির দাম একেবারে কমিয়ে আনা হয়েছে। সর্বোচ্চ বাজার মূল্য কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক বিঘা জমির হারি সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকা। একজন শ্রমিক মাসিক বেতন ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া দৈনিক মাথাপিছু দিনমজুর ৪০০ টাকা। বাগদার পোনাপ্রতি হাজার (নদী) ১৫০০, হ্যাচারি ৪০০ টাকা। সার কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনের সঙ্গে চিংড়ির বাজার দরের কোনো মিল নেই। এছাড়া ভাইরাসে কয়েক মাসজুড়ে মাছ মরা এবং সার্বিক খরচ মিটিয়ে উৎপাদন খরচ উঠানো একজন চাষির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা মোট মৎস্যচাষির সংখ্যা ৪৮১৭ জন। ২০১৭-১৮ প্রতি বছর চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ৫৭২০,৫০ টন মাছ, ৩৭২০,৮০ টন, কাঁকড়া ৪১১০,৮০ টন। যা মোট উৎপাদন ১৩৫৫১,৩০ টন। প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চিংড়ির দাম না থাকায় পোনা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস বলেন, কিছু কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে চিংড়ি খাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অপর দিকে, ২২ মে থেকে জুলাই ২২ পর্যন্ত চিংড়ি প্রজননকাল ধরা হয়। এ সময় বাজারে কোনো পোনা না থাকায় ভরা চিংড়ি চাষ মৌসুমে চাষিরা চরম বিপাকে থাকেন।

এ ব্যাপারে জেলা চিংড়ি পোনা হ্যাচারি মালিক সমিতির সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, প্রজন্ম কাল বাংলা কার্তিক থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত সময় নির্দিষ্ট করা হলে চিংড়িচাষিদের দুশ্চিন্তায় ভুগতে হতো না।

 

"