শীতের ক্ষতি এড়াতে গ্রীষ্মে কপি চাষ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

শীতের সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও, মেহেরপুরে সারা বছরই চাষ হচ্ছে পাতাকপি-ফুলকপি। মৌসুম না হওয়ায় দাম একটু বেশি হাঁকেন বিক্রেতারা। তবে দ অসময়ে শীতের সবজি পেয়ে খুশি ক্রেতারা। অবশ্য আগাম এ কপির স্বাদ ও গন্ধ অনেকটাই আলাদা। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও ঝুঁকেছে আগাম কপির চাষে। এবছর প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে অমৌসুমেও কপি চাষ হয়েছে।

কয়েক বছর ধরে মেহেরপুরে বেড়েছে অমৌসুমে কপির চাষ। কৃষকরা মনে করেন. শীতকালে কৃষকদের কপিচাষে ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়। আগাম কপিচাষ করতে পারলে এবং কপি ভালো হলে লোকসানের ভয় থাকে না। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবিঘা কপির চাষ করতে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে ছয় হাজার কপি চাষ করা যায়। প্রতিটি কপি ১০ টাকা করে বিক্রি করলেও ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। প্রতিবিঘা কপিতে লাভ দাঁড়ায় ৩৫ হাজার টাকা। দাম আরো একটু বেশি হলে লাভ অনেক বেড়ে যায়। কপির চাষ করে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে তা বাজারজাত করা যায়।

মেহেরপুরের গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের কপি চাষি আকবর আলী জানান, ‘শীতকালের কপি বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। তাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু আগাম চাষ করা কপি এ ধরনের নয়। সাধারণত একটু উঁচু জমিতেই কপির চাষ করা হয়। চারার গোড়ায় পানি দাঁড়িয়ে না গেলে কপির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। এ কারণেই চার বছর ধরে কপির চাষ করে আসছেন তিনি।

মেহেরপুরের হিজুলী গ্রামের আরেক কপিচাষী মুহ. জাহাবক্সকে দেখা যায় কপি খেতে কীটনাশক ছিটাতে। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিনই কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। না হলে যেমন পাতাকপি ভালো বাধে না। তাছাড়া পোকার আক্রমণ তো আছেই। পোকা ঠেকাতেই কীটনাশক দিতে হচ্ছে।

একই গ্রামের কপিচাষি রমজান আলী জানান, শীতে কপির চাষ করে তিন বছর ধরে শুধু লোকসান গুনতে হয়েছে। দুই বছর ধরে আগাম পাতাকপি চাষ করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। প্রায় একই কথা বলেন মেহেরপুর সদর উপজেলার কপিচাষি ডাবলু হোসেন।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আক্তারুজ্জামান জানান, এবার অসময়ে আগাম কপিচাষ হয়েছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কপি চাষিরা লাভের মুখ দেখছে।

 

"