অধ্যক্ষের ‘ভুল তথ্যে’ চাকরি অনিশ্চয়তায় ২৩ শিক্ষক

কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌস মিয়ার ‘ভুল তথ্যে’ ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৩ শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণের জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ওই শিক্ষকদের চাকরিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষকবৃন্দ অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে ওই অধ্যক্ষসহ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের কাছে চাকরি অনিশ্চয়তার বিষয়টি জানান।

ভুক্তভাগী শিক্ষকরা জানায়, ২০১৭ সালে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। এখানে ৪৪ জন এমপিওভূক্ত শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের পর থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক ওই সংখ্যক শিক্ষকের সরকারিকরণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক শিক্ষকদের বিভিন্ন তথ্য চেয়ে একটি ফরম প্রেরণ করা হয়। যাতে ওই শিক্ষকদের সরকারিকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার তথ্য চাওয়া হয়। পরে এ ব্যাপারে কলেজের ৫ শিক্ষকদের দিয়ে একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ। সেই কমিটির সদস্যসহ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ওই ফরমে ২৩ শিক্ষকের ভুল তথ্য দিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছে বলে জানান ভুক্তভোগীও ওই শিক্ষকরা।

জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ সত্য নয়। তবে বিষয়টি আমলে নিয়ে তাদের তথ্য ফরম পূনরায় যাচাই-বাচাই করা হবে। এতে যদি কোন ভুল-ত্রুটি পাওয়া যায় সেগুলো সংশোধন করা হবে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক। এ সময় তিনি ভুক্তভাগী শিক্ষক, যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও অধ্যক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে তিনি কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ করেন। ইউএনও শিবলী সাদিক বলেন, উভয় পক্ষের কথা শুনেছি। কয়েকজনের বক্তব্যে কিছুটা সত্যতাও মিলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু সরকারি, তাই ভুক্তভোগী শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ করতে বলেছি। অভিযোগ পেলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

"