হরিণখোলা বাঁধে ভাঙন আতঙ্ক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

মজিবার রহমান, কয়রা (খুলনা)

দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা খুলনার কয়রাবাসীর। গত কয়েক দিন আগে কপোতাক্ষ নদীর পাড়ে হরিণখোলা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর পর ফণীর আঘাতে দুর্ভোগে আরও বেড়ে গেছে। শুধু হরিণখোলা নয় অব্যাহত ভাঙনের কারণে কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন আতঙ্কে। ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদীর তীরবর্তী জনপদের বিস্তির্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে ১৩-১৪/২-নং পোল্ডারের গোবরা, ঘাটাখালী ও হরিনখোলার বেড়িবাঁধ। সম্প্রতি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ধ্বসে যাচ্ছে নদীর পাড়ের মাটি। অধিকাংশ জায়গায় বাঁধের গোড়ায় মাটি না থাকায় সংকীর্ণ ও খাড়া হয়ে গেছে বেড়িবাঁধের রাস্তা। দুর্বল বাঁধ ভেঙে যে কোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে এ অঞ্চলের জনপদ। এর আগে ঘূর্নিঝড় ফণীর আঘাতে হরিণখোলা বেড়িবাধ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। তাৎক্ষনিক এলাকাবাসী বাঁধ রক্ষায় কাজ করলেও ভাঙন আতংকে রাত কাটাচ্ছে তাদের। বাঁধ রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

ঘাটাখালী ও হরিণখোলা গ্রামের মোস্তাফিজুর, আবুল হোসেন, ইমান আলীসহ অনেকেই বলেন, হরিনখোলা বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটিতে ধ্বস বেড়েই চলেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গফফার ঢালী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় হঠাৎ করে হরিণখোলার বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটি ধ্বসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আলম বলেন, কয়রা এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের স্পর্শকাতর স্থানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ পূর্বক প্রতিবেদন তৈরি করে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই সল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে। ইতিমধ্যে হরিনখোলা বাঁধে টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত কজ শুরু করা হবে।

কয়রা সদর ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোস্তফা নাজমুছ ছাদাত বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেয়া না নেয়া হলে কয়রা সদরের দরিদ্র মানুষ বসতবাড়ীসহ ফসলী জমি হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে পড়বে। ইতোপূর্বে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন শুরু হলেই ভাঙন রোধের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের তোড়জোড় শুরু হয়। যা শুধুই অপচয় মাত্র।

 

"