ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র দাবদাহ

হাসপাতালের বারান্দায়ও রোগী এক বিছানায় ২-৩ জন

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

শাকিল আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

টানা কয়েক দিন ধরে প্রচন্ড দাবদাহে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড়েছে রোগীর চাপ। ১৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এখন আছে ১০৮ রোগী। রোগীর চাপে বেসামাল হয়ে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই বিছানায় ২ থেকে ৩ জন করে রোগী রাখা হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য শিশু রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতেই। গত এক সপ্তাহে শিশু ওয়ার্ডে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে।

সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়াসহ সব ওয়ার্ডেই রোগীর চাপ। কক্ষ থেকে শুরু করে বারান্দাÑ কোথাও যেন জায়গা নেই। একে তো অসুস্থ্যতা, অন্যদিকে গরমে অস্থির সবাই।

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ১০৮ শিশু রোগী। এরমধ্যে ডায়রিয়ায় ৬৩, নিউমোনিয়ায় ২৭ ও রোগে ১৮ জন ভর্তি হয়। গত এক সপ্তাহে শিশু ওয়ার্ডে ৮০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ ওয়ার্ডে এক সপ্তাহে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন। গরমের কারণে জ্বর-সর্দি-কাশ্বি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় শিশু রোগীরা। এতে এসব শিশু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গাংগর গ্রাম থেকে আসা শিউলী বেগম বলেন, তিনি ৪ মাস বয়সের শিশুপুত্র মাহিকে নিয়ে ৩ দিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে আছেন। কিছুইতেই ছেলের ডায়রিয়া ঠিক হচ্ছে না। তাঁর মতো অনেকেই হাসপাতালে পড়ে আছেন।

দেবিগঞ্জ থেকে আসা গৃহবধু রুনা আক্তার তাঁর ২ মাসের শিশু ছেলে রিজনকে নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একটি বিছানায় দুটি শিশুর সঙ্গে রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পবিার নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে বিছানা নেই। তাই বাধ্য হয়ে একটি বিছানায় অপর দুইজন শিশু রোগীর সাথে নিজের ছেলেকে রেখেছি। অনেক কষ্ট হচ্ছে গরমে।

সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট শিশু ডা. সাজ্জাত হায়দার শাহীন বলেন, প্রচ- গরমের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে আসছে। আমরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে পরামর্শ হচ্ছেÑ গরমের এই সময়ে শিশুদের ঘন ঘন পানি খাওয়াতে হবে। গরমের ঘাম যেন কোন ভাবেই শিশুর গায়ে না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেসব শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করছে; তাদের মায়ের বুকের দুধ বেশি বেশি দিতে হবে।

হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবনটির উদ্বোধন করেছেন। জুন অথবা জুলাইন এর মধ্যে ভবনটিতে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম শুরু হবে। তখন আর শিশু রোগীদের কষ্ট করতে হবে না। এখন আমরা যতটুকু পারছি শিশু থেকে শুরু করে সকল রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আসছি।

 

"