প্রান্তিক বাজারেও বেড়েছে পণ্যের দাম, ক্ষুব্ধ ক্রেতা

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

রমজানের শুরুতেই বেড়েছে নিত্যপণ্যের বাজার দর। এক সপ্তাহেও কমে এ দর। বরং রেড়েছে কোনো কোনো পণ্যের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের। কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা সহ মসলা জাতীয় পণ্যের পাশাপাশি ডাল, মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক ভাবে।

ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজারে সরকারের নানা সংস্থা বাজার মনিটর করলেও এর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। সরকারের উদ্যোগ আশ্বাসের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, মূল মোকামে পণ্যের দাম না বাড়লে সাধারণ ভোক্তারা সঠিক দামেই নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন।

কুড়িগ্রাম থেকে আরিফুল ইসলাম রিগান, হবিগঞ্জ থেকে জাকারিয়া চৌধুরী, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা থেকে ইমরান হোসাইন, দিনাজপুরের হিলি উপজেলা থেকে আব্দুল আজিজ, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা থেকে তরিকুল ইসলাম জেন্টুর পাঠান খবর:

কুড়িগ্রাম : জেলা শহরের পাইকারি বাজারে চলতি মাসের শুরুতে কাঁচা মরিচ ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও রোজা শুরু থেকে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে। একইভাবে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে ৬০ টাকা কেজি রসুন খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে ডাল-ছোলার বাজারসহ অস্থির হয়ে উঠেছে মাছ ও মাংসের বাজার। বেড়েছে সবজির দামও।

জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. নাছির উদ্দিন বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা প্রথম রোজা থেকে বাজার মনিটরিং শুরু করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’ জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন বলেন, ‘ আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হবিগঞ্জ : কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে হবিগঞ্জ শহরের সবজি বাজারে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুল্য আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজার আগের দিনও সবজি যে দামে বিক্রি হচ্ছিল বর্তমানে এর দাম ২ থেকে ৩ গুন দামে বিক্রি হচ্ছে। শহরের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার ‘চৌধুরী বাজারে’ সরেজমিনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ রোজার আগের দিনও এগুলোর দাম ছিল বর্তমান দামের অর্ধেক।

হবিগঞ্জ ব্যবসায়ি কল্যাণ সমিতির (ব্যাকস) সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন জানান, রমজান এলেই প্রতিটি নিত্য পণ্য জিনিসের দাম বেড়ে যায়। এটা আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের এক ধরণের স্বভাব হয়ে গেছে। তবে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বাজার মনিটরিং চালু থাকার কথা উল্লেখ করে জানান, মূল্য বৃদ্ধি বিষয়ে যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পাথরঘাটা (বরগুনা) : বরগুনার পাথরঘাটায় চাল, ডাল, ছোলা, রসুন, পেঁয়াজ, আলু থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যই বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে। কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে তার চেয়েও বেশি। তবে ভিন্ন কথা জানালেন মো. দুলাল নামে একজন কৃষক। এসব পণ্যের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের ভাল দাম পাচ্ছেন বলে খুশি তিনি।

রমজানের তৃতীয় দিনে পাথরঘাটা পৌরশহরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, আলু ১৮ টাকা, পেঁয়াজ ২৮ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি ও কাঁচা কলা ৩০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। পাথরঘাটায় চালের দাম গত দু-তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত দুই টাকা হারে বেড়েছে।

হিলি (দিনাজপুর) : রমজানের শুরুতে হিলি স্থলবন্দরের পাইকারী মোকামে বেড়েছে ছোলা, চিনি, রসুনের দাম, তবে স্বাভাবিক রয়েছে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম। ২-৩ দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি ছোলাই বেড়েছে ৫ টাকা, চিনিতে ৪ টাকা, ও প্রকারভেদে রসুনে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে স্বাভাবিক রয়েছে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেয়াঁজের দাম।

পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে বন্দরে পেয়াঁজের গুনগত মান নষ্ট হওয়ায় পাশা পাশি কমে গেছে পেয়াজের বিক্রি। যার কারনে বিপাকে পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীদের। হিলি কাস্টম সূত্রে জানা যায়, হিলি কাস্টমসের হিসেব মতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ৬ দিনে এই বন্দর দিয়ে ভারতীয় ১৮৮ ট্রাকে ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পেয়াঁজ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে।

আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘিতে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যেরই মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, রোজার কারণেই অনেক বিক্রেতা ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে নতুন বাজরের আসাদ মসলা স্টোরের সত্ত্বাধিকারী মো. আসাদুল ইসলাম জানান, ‘পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়াই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। মুল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে খুচরা ব্যবসায়ীদের কোন হাত নেই।’ আড়ৎদাররা যেভাবে মূল্য বৃদ্ধি করে আমরাও সেভাবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি।

 

"