রংপুরে জাল শিক্ষা সনদে একযুগ ধরে নিকাহ রেজিস্ট্রার!

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

মহানগর (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (রসিক) জাল কাগজপত্র বলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ পাওয়া গেছে সৈয়দ আব্দুল বাতেন রুম্মানের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর শহরের কেরানীপাড়া এলাকার মাসুদ রানা জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর এই অভিযোগ করেন। অভিযোগের অনুলিপি ডিআইজি, জেলা কালেক্টরেটকেও দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। প্রায় দুই সপ্তাহেও এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

২০১৬ সাল থেকে জেলা সদরের ১৮ নং (সাবেক ৩নং) ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ রুম্মান। এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় দুই সহ¯্র দম্পত্তি বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর আগে সৈয়দ আব্দুল আউয়াল এই দায়িত্ব পালন করতেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা, রসিকের সাবেক ৩নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সৈয়দ আব্দুল আউয়াল ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময় দায়িত্ব থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিলে ওই স্থানে তার ছেলে সৈয়দ আব্দুল বাতেন রেজিস্ট্রার নিয়োগ ও লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করেন। এ জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়া সনদপত্রের ফটোকপি আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা করেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১২ জুলাই তাকে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অভিযোগ পরিপ্রেক্ষিতে সৈয়দ বাতেনকে পাশের মূল জমার নির্দেশদেন কর্তৃপক্ষ। তা না দেওয়ায় তার জমাকৃত সনদপত্রের ফটোকপি যাচাই পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানান জেলা রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান। অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার বাতেনের সনদপত্র অনুযায়ি তিনি ১৯৮৫ সালে নলডাঙ্গা গোবিন্দপুর মোকাব্বেরিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে তৃতীয় বিভাগে দাখিল এবং ছোট নারিচাগাড়ী হাম্মাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা থেকে তৃতীয় বিভাগে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অনুসন্ধানে নলডাঙ্গা গোবিন্দপুর মোকাব্বেরিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার জানান, ১৯৮৫ সনে এই মাদরাসা থেকে ওই নামে কোন ছাত্র চূড়ান্ত দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন নাই। একই ভাবে ছোট নারিচাগাড়ী হাম্মাদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার অধ্যক্ষ এবিএম আব্দুর নুর জানান, সৈয়দ আব্দুল বাতেন নামে কোন ছাত্র আলিম চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে নাই।

এদিকে তার জমা দেওয়া সার্টিফিকেটের ফটোকপির সত্যতা জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকার উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হুসাইন মাহমুদ ফারুক জানান, সৈয়দ আব্দুল বাতেনের দাখিলকৃত আলিম ও দাখিল পাশের সনদপত্রের ফটোকপির সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ডের কোন মিল নাই। এ বিষয়ে রংপুর জেলা রেজিস্টার মনিন্দ্রনাথ বর্মন জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইন মন্ত্রণালে পাঠানো হয়েছে, এ বিষয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে সৈয়দ আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমার জুনিয়র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এদিকে সৈয়দ বাতেনের জাল শিক্ষা সনদে নিকাহ রেজিস্টার হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েন ১৮ নং ওয়ার্ডবাসী। তারা বাতেনের রেজিস্টারপদ ও লাইসেন্স বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আইনমন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

"