যমুনা চরাঞ্চলের গুপ্তধন চীনা বাদাম

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

ইব্রাহীম ভূইয়া, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনার বুকজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় চর। এসব চরে মাইলের পর মাইল সাদা বালুর জমিনে সবুজ আর সবুজে ছেয়ে গেছে লতানো বাদামের গাছে। প্রতিটি লতানো বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই ওঠে আসছে থোকা থোকা সোনালি রঙের চিনা বাদাম। এ যেন বালুর নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন। বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগেই গুপ্তধন ঘরে তুলতে ব্যস্ত শত শত কৃষক।

দীর্ঘদিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চীনা বাদামের চাষ করে আসছেন। এ বছর যমুনার চরাঞ্চলে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে ঢাকা-১ ও ডিজি-২ জাতের চীনা বাদামের চাষ হয়েছে। ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা চরের কৃষক আজমত আলী জানান, যমুনা চরের বালু মাটি চীনা বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ বছর বাদাম চাষ করে অনেক লাভ হবে বলে আশা করছি। প্রতি মণ কাঁচা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার৬০০ টাকায় এবং প্রতি মণ শুকনা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০টাকায়। এবার ফলন ভলো হওয়ায় এক বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ বাদাম পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদামের ফলনও হয়েছে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি সম্পসারণ কর্মকর্তা এস এম রাশেদুল হাসান জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর যমুনা চরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ অনেকটাই কম এবং দামও অন্যান্য ফসলের চেয় বেশি। তাই দিন দিন চরাঞ্চলের চাষিরা বাদাম চাষে ঝুঁকছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি, যমুনার চরে বাদামের ব্যাপক চাষাবাদ কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কৃষকদের সব সময় আমরা সচেতনামূলক পরামর্শ দিয়ে থাকি।

 

"