ধোবাউড়ায় শ্রমিক সংকটে মাঠে পুড়ছে পাকা ধান

প্রতি মণ ধান ৪৫০ টাকা; শ্রমিকের মজুরি ৭০০!

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার মাঠ জুড়ে বোরো ফসলের মৌ মৌ গন্ধ, সোনালি ধানের মনোহর দৃশ্য দেখে প্রাণ জুড়ায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে শ্রমিক সংকট এবং ধানের ন্যায্য মূল্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ১ মণ ধানেও মিলছে না ১ জন শ্রমিক। উপজেলায় চরম শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময় মত ধান কাটতে পারছে না কৃষক। এদিকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় করছেন তারা। ফলে পাকা ধান নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে পড়েছেন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড়ে ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। জানা যায়, জন প্রতি শ্রমিকের মজুরী দিতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। সঙ্গে দুই বেলা খাবার। এতে কৃষকের শুধু ধান কাটাতেই প্রতিমণ ধানের খরচ পড়ছে প্রায় ৯০০ টাকা। অন্যান্য খরচতো আছেই। চলতি বোরো মৌসুমে ঝড়, শিলাবৃষ্টি, পোকামাকড়, রোগবালাই নিয়ে কৃষকরা ছিল বিপাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক না থাকায় ধান কাটতে পারছেনা কৃষক। দর্শা গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম আমির, রানিপুর গ্রামের ফিরোজ মিয়া, গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমানসহ অনেকেই জানান, ক্ষেতে পাকা ধান রয়েছে কিন্তু কামলার লাগি ধান কাটতে পারছিনা। এছাড়ও বাজারে ধানের চাহিদা ও বাজার মুল্য অনেক কম থাকায় আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ রকম লোকসান হলে ভাবছি আর ধানের আবাদ করবো না।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা; অর্থাৎ ১০৪০ টাকা মণ ধান ক্রয় করার সরকারী নির্দেশনা রয়েছে, খুব শীগ্রই ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে।

 

"