বিদ্যালয়ের পাশে সভাপতির পোলট্রি খামার

এক হাতে নাক চেপে আরেক হাতে লিখতে হয়

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুইবিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে তোলা সভাপতির গরু ও পল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে ঘনবসতি এলাকায় অবস্থিত এই খামারের দূর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী। উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা বাজার পার্শবর্তী এম মুহিয়্যূদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় ও আওনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি অবস্থিত। এর মধ্যে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ব্যবসায়ি মাহমুদুল হাসান দোলন গড়ে তুলেছেন ‘অর্গানিক এগ্রো ফার্ম’ নামক খামার। তার বাবা এম. মুহিয়্যূদ্দিন নিজের নামে ওই বিদ্যালয় নির্মাণ করেন।

খামারের পাশেই রয়েছে পোস্ট অফিস, বাজার, মসজিদ, মাদরাসা, কিন্টার গার্ডেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়সহ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গড়ে ওঠা খামারের বিষ্ঠার দূর্গন্ধ এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পড়াশুনা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের আসার সময় এবং শ্রেণি কক্ষেও মুখে মাস্ক ব্যবহার করে ক্লাশ করতে হয় তাদের। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়ার মতো রোগ প্রকট আকার ধারণ করে স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন এখানকার স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাতাসের সঙ্গে মাঝে মাঝে খামার থেকে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বিশেষ করে ভোর, দুপুর, সন্ধ্যা ও মাঝে মাঝে রাতে এই গন্ধ তীব্র হয়। খামারের পার্শ্ববতী সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষকেও এই গন্ধ পোহাতে হয়। এতে পোল্ট্রি খামারের নাকের ডগায় অবস্থিত এম মুহিয়্যূদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় ও আওনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, মাহমুদুল হাসানকে বারবার বলা পরও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র শফিকুল বলেন, খামারের দূর্গন্ধে ক্লাসে এক হাত দিয়া নাক চেপে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে লিখতে হয়। এভাবে ক্লাসে পড়াশুনা করতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়।

এম মুহিয়্যুদদীন উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে খামারের দূর্গন্ধ যখন বেড়ে যায়, তা সহ্য করা যায় না। আমরা চাই একটা স্থায়ী সমাধান। গন্ধে ক্লাষ করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়।

পার্শ্ববর্তী আবেদুননেছা শরিফ এতিমখানা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলেন, খামারের বিষ্ঠার গন্ধে ঠিকমত নামাজ পড়তে পারি না। মাদরাসার ছেলে মেয়েরাও অতিষ্ঠ হয়ে বের হয়ে যায়।

জানতে চাইলে আওনা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বাজারে যেতে হলে এ খামারের পাশের রাস্তা দিয়েই যেতে হয়। এ ছাড়া অন্য কোন রাস্তা নেই। খামারের কাছে এলেই নাকে কাপড় চেপে রাখতে হয়, দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। ঘনবসতি এলাকায় মানুষের ক্ষতি করে এ ধরণের ব্যবসা করা ঠিক না। যত তারাতারি সম্ভব এখান থেকে খামার অন্যত্র সরিয়ে ফেলা।

তারা বলেন, দোলন সাহেবের বাবা অনেক আশা করে নিজে নামে বিদ্যালয়টি তৈরি করেছেন। তার ছেলে হয়ে এভাবে বিদ্যালয়ের পাশে খামার করাটা তার ঠিক হয়নি। তবে এ ব্যাপারে এম মুহিয়্যূদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় ও আওনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা কথা বলকে রাজি হয়নি।

অর্গানিক এগ্রো ফার্মের মালিক মাহমুদুল হাসান খামারের দূর্গন্ধ ছড়ানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, আগে গন্ধ ছিল। কিন্তু বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করার ফলে এখন গন্ধ নেই বললেই চলে। তবে মাঝে মাঝে একটু গন্ধ বের হয়। আশা করি সেই গন্ধও থাকবে না। আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম সালাউদ্দিন মঞ্জু বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। ব্যাপারটি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

"