নবাবগঞ্জে রাতে ইয়াবাসহ আটক ৪, সকালেই মুক্ত ৩

রাতেই তাদের ছাড়িয়ে নেন চেয়ারম্যানের লোক

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার নবাবগঞ্জে শুক্রবার রাতে ইয়াবা সেবনের সময় চার মাদকসেবীকে পুলিশ আটক করে। তবে সকাল হওয়ার আগেই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের মাদলা চক এলাকার একটি বিলের পাড়ে বসে ইয়াবা সেবন করা সময় স্পট থেকে তাদের ছিল। এ সময় বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. আব্দুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ওই চারজনকে আটক করেন বলে জানা যায়।

আটককৃত চারজন হলেন উপজেলার মাদলা গ্রামের মৃত ধীরেন বিশ্বাসের ছেলে সুভাষ বিশ^াস, বারুয়াখালী গ্রামের ছেলে আফসার বিশ্বাসের ছেলে বিপ্লব সিকদার, মৃত জহিরউদ্দিন দেওয়ার বড় ছেলে শামীম দেওয়ান ও বক্তারনগর গ্রামের মজিদ বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদুর রহমান মুরাদ। এদের মধ্যে শুধু সুভাষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ। বাকিদের রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এলাকাবাসী বলেন, বিপ্লব সিকদার স্থানীয় চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই এবং শামীম চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল চালক ও মুরাদ তাদের ঘনিষ্ট। তাই রাতেই তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয় চেয়ারম্যানের লোকজন। তারা এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবক স্থানীয়রা জানান।

নবাবগঞ্জ থানার তথ্য বিবরণীতে, সুভাষকে ২৫টি ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে শনিবার নবাবগঞ্জ থানা হাজতে জমা দেন উপপরিদর্শক মো. আবদুর রশিদ। দুপুর দেড়টা দিকে তাকে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সোহরাব হাসান তালুকদার।

গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে নবাবগঞ্জ থানাহাজতে উপপরিদর্শক মুন্সি আশিকুর রহমানসহ কয়েকজন সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে সুভাস বিশ^াস স্বীকার করেন, রাতে মাদলা চকে তিনি বিপ্লব সিকদার, শামীম, মুরাদের সঙ্গে মিলে ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় ৫টি ইয়াবাসহ উপপরিদর্শক মো. আব্দুর রশিদ তাদের আটক করেছেন।

সুভাস বিশ^াসের স্ত্রী ও ছেলে কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, এটা অন্যায়। মামলা হলে ৪ জনের বিরুদ্ধে হওয়ার কথা। অন্য তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে, একজনের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে না।

এলাকাবাসী জানান, পুলিশ চারজনকে আটক করলো। কিন্তু বিপ্লব, শামীম ও মুরাদ জনপ্রতিনিধিদের লোক বলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো। এটা কেমন আইন? চারজনই যেহেতু অপরাধী, তাই চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার দরকার ছিল। জানতে চাইলে বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি একজনের কাছ থেকে শুনেছি। আমি ঢাকা তাই পুরো ঘটনা অবগত নই। তবে মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক আমি ছাড় দিব না। আইন তার নিজের গতিতে চলবে।

নবাবগঞ্জ থানার বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. আব্দুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, সুভাষকে এ আগেও আটক করা হয়েছিল। তার কাছেই ২৫টি ইয়াবা পেয়েছি। তাই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আটক বাকিদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি। তাই তাদের সাক্ষি করা হয়েছে এবং ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি তিনজন কি কারণে ওখানে ছিল বলতে পারি না।

দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যাপারটা দেখব।

"