বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পাঁচ লাখ মানুষকে সেবা দেন ৩ চিকিৎসক

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবা দান। উপজেলার ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় একমাত্র ভরসা তারা। এ ছাড়া অবস্থাগত কারণে পার্শ্ববর্তী জেলার সালথা, মহম্মদপুর ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি অংশের রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে এ উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন এখানে তিন শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। ৫০ বেডের হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০জন রোগী ভর্তি থাকে। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। সেখানে ডা. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ কর্মরত আছেন শিশু কনসালটেন্ট হিসেবে, মেডিকেল অফিসার হিসেবে আছেন ডাক্তার সৌমিত্র সরকার ও ডাক্তার শান্তনু ভট্ট্যাচার্য।

তাদের মধ্যে ডাক্তার শান্তনু কর্মস্থল খামার পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে। ডাক্তার সংকটের কারণে মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি জরুরী বিভাগ ও বহির্বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. নুরজাহান বেগম ও ডা. নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি অধিকাংশ সময় রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য জনবলের মধ্যে সুইপার পোস্ট ৫জন থাকলেও আছে ১জন, ওয়ার্ডবয় গত এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। অন্যান্য পদের মধ্যে অফিস সহকারী একজন ও এমএলএসএস একজন ছাড়া বাকি পদ গুলো শুণ্য রয়েছে। এক্সে-রে মেশিনের নির্দিষ্ট কোন কক্ষ না থাকায় পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে গত ১০-১২ বছর ধরে পড়ে থাকায় সেটিও অচল হয়ে গেছে। আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন লোকবলের অভাবে গত ২-৩ বছর অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে; সেটাও মরিচা পড়ে নষ্ট হওয়ার পথে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসক সংকটে থাকায় বর্তমানে যারা আছেন তাদের ওপর প্রচন্ড চাপ পড়ছে। এখানে জুনিয়র কার্ডিওলজিষ্ট হিসেবে ডাক্তার রকিবুল কবিরের পোস্টিং থাকলেও গত দেড় বছর ধরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ডেপুটেশনে আছেন। এছাড়া এখানে ক্যাশিয়ার, হিসাব রক্ষক ও পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসা সংকট কাটতে পারে বলে আশা করেন তিনি।

"