ধামরাইয়ে কৃষিজমিতে ব্যাটারি ফ্যাক্টরি

কারখানার বর্জ্যে মরছে মাছ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

মো. আবদুর রউফ, ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকার ধামরাইয়ে ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি প্রভাবে পাশের পুকুরের সব মাছ মরে গেছে। উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেলিশ্বরে এলাকায়কিং পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানি নামের ওই ব্যাটারি কারখানা অবস্থিত। কারখানার প্রভাবে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে। এমন কি তারা খেলনা তৈরির কারখানা ও পরিবেশগত প্রভাব পড়বে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি কিনে ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে কারখানার পাশের একটি বড় পুকুরের মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও আশেপাশের গাছের ফল কারখানার ধোয়ায় অর্ধেক করে পুরে গেছে। এর কারণে ঝরে পড়ছে ফল। এমন কি জমির ফসল পুড়ে গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কিং পাওয়ার ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি পাশের ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়াসহ পুকুড়ে পড়েছে। ফলে ওই জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসহ আশে পাশের পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা গেছে। এ ছাড়া খেতের মধ্যে কচুরি পানাগুলিসহ সকল প্রকার আগাছা মরে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

বেলিশ^র গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম ও মোগর আলীসহ অনেকেই বলেন, আমরা এখন জমিতে কাজ করতে পারি না। কারণ জমির পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। শরীরে পানি লাগলেই চুলকাতে থাকে এবং শরীর ফুলে যায়। জমির উপর সব পানাগাছ বিষাক্ত পানির কারণে মরে গেছে। আবার কারখানার ধোয়ায় হাঁচি, কাশিসহ শ^াসকষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মালিক বেলিশ^র গ্রামের মো. ঠান্ডু মিয়া বলেন, ব্যাটারি কারখানার বর্জ্যে ও বিষাক্ত পানি প্রভাহিত হয়ে আমার পুকুরের মাছ মড়ে গেছে। এর আগেও পুকুরের মাছ মরার ঘটনা ঘটে ছিল। পরে কারখানার কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন বিষাক্ত পানি ও কালো ধোঁয়ার কারণে এলাকার লোকজনের বিভিন্ন ধরণের অসুখ-বিসুখ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া ছোট ছোট বাচ্চাদের শ^াসকষ্টসহ নানা ধরণের জটিল রোগে ভুগছে।

তিনি আর বলেন, এই কারকানায় সব সময় বিষাক্ত এসিডের কাজ করা হয়। শ্রমিকরা মোটা কাপরের গ্লাবস মুখে লাগিয়ে কাজ করতে হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরাই এই জমি কারখানার মালিকদের কাছে বিক্রি করেছি, কথা ছিল তারা এখানে খেল না তৈরি করবে, পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু এখন তৈরি করছে ব্যাটারি যার বিষাক্ত ধোয়া পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূতিপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মেহের আলী দেওয়ান বলেন, এই কারখানা এখন আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানার বিষাক্ত পানি ও বর্জ্যরে কারণে মানুষের পুকুরের মাছ, জমির ফসল ও গাছপালার ফলগুলি ঝরে পড়তেছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ি যে কোন ধরনের ব্যবসা, কারখানা, ও ফ্যাক্টরি করতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের একটি ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। কিন্তু কিং পাওয়ার লিমিটেড কম্পানী সেই ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া নিজেদের ক্ষমতার বলে ব্যবসা করছে। আমি বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের কথার তোয়াক্কাই না করে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ফ্যাক্টরি চালাতেছে।

ট্রেড লাইসেন্স থাকা প্রসঙ্গে সূতিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, যদি কিং পাওয়ার ব্যাটারি ফ্যাক্টরির বিষাক্ত পানিতে মাছ মরে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিং পাওয়ার লি. কর্মকর্তা মো. আলামিন হোসেন বলেন, আমি আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পুকুরের মাছ মরে গেছেÑসেটা দেখেছি এবং সাথে সাথে হেড অফিসের স্যারদের জানিয়েছি।

কারখানা প্রসঙ্গে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এসডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক মো. সামছু রহমান বলেন, কারখানার বিষাক্ত পানি ও বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ দিনদিন হুমকির মুখে পরছে। এদের বিষাক্ত ধোঁয়া ও পানির কারণে জমির ফসল ও গাছের আম, জাম, কাঠাল, লেচু কিছুই হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ব্যাটারি কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানির কারণে পুকুরের মাছ মারা গেছে তা আমাকে কেউ জানায় নি। তবে যদি মাছ মারা গিয়ে থাকে তাহলে ব্যাটারি কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ফসলি জমিতে ব্যাটারি কারখানা ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে বলেননি এই কর্মকর্তা।

"