ফরিদপুরে গরমে ফেটে গেছে লিচু মূলধন নিয়ে শঙ্কা চাষি

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে লিচুর আবাদ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে প্রচন্ড গরমে বাগানের শত শত গাছের লিচু পুড়ে ঝরে যাচ্ছে। যেগুলো রয়ে গেছে তার মধ্যে অনেকগুলোতে দেখা যাচ্ছে কালো দাগ, অধিকাংশ গাছের লিচু ফেটে নষ্ট হচ্ছে। ফরিদপুরের লিচু রাজধানী ঢাকাসহ বরিশাল, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় এখন পাওয়া যায় । তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৩শ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যা প্রতিহেক্টরের ৮ মেট্রিকটন হারে উৎপাদিত হবে বলে জানিয়েছে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরেজমিনে মধুখালীর জাহাপুর, বোয়ালমারীর কাদিরদী ও সদর উপজেলার চানপুর এলাকার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পরিবারের বিভিন্ন বষয়ী সদস্যরা বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে তার বাছাই করছে। কিন্তু অধিকাংশ বাজানে প্রচন্ড খড়া আর রোদের তাপে লিচুর একাংশ প্রায় পুড়ে গেছে। বাগানগুলোতে লিচু তাপে শুকিয়ে ঝড়ে পড়ছে। অন্যদিকে সম্প্রতি সারাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ফণীর আঘাতেও বাগানগুলো বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে। ওই এলাকার চাষিদের কাছ থেকে যে সব ব্যবসায়ীরা লিচু ক্ষেত কিনেছে তাদের মূলধন তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়েও শঙ্কিত তারা।

মধুখালীর জাহাপুর এলাকার লিচু চাষি মো. রাশেদুল ইসলাম বাবু জানান, বাগানে কীটনাশক, সার ও ঔষধ ব্যবহার করেও লিচুর ফলনের ভালো মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ না পেলে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

ফরিদপুর সদর উপজেলার ১নং ঈশান গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু জানান, গত ৫-৬ বছর ধরে তাদের এলাকায় অনেক লিচু বাগান গড়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে শুরুতে বেশ ভাল ফলন ছিলো বাগানগুলোতে, শেষ সময়ে এসে প্রচন্ড তাপদাহের কারণে বাগানগুলোতে ফলন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কান্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, প্রচন্ড তাপদাহ থেকে লিচুর ফলন ধরে রাখতে হলে ডায়বেন এন ৪৫ অথবা টিল্ট পানিতে মিশিয়ে লিচু পাকার আগে (সময় মতো) গাছে স্প্রে করতে হবে কমপক্ষে তিন বার। এছাড়াও খড়ার পরিমাণ বাড়লে গাছে সকাল বিকাল পানি দিতে হবে। তাপদাহের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই সৃষ্টি হয়, এজন্য চাষিকে যত্নবান হতে হবে।

"