রোহিঙ্গাদের বর্জ্যে খাল দূষিত উখিয়ার স্থানীয়দের দুর্ভোগ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

রোহিঙ্গা পূর্ব বছরগুলো আগে উখিয়ার বালুখালী তেলিপাড়া খালে বাঁধ দিয়ে বোরো আবাদসহ মৌসুমী শাক-সবজি উৎপাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয়রা। গত দুই বছরে সীমিত আকারে চাষাবাদ করা গেলেও রোহিঙ্গাদের কারণে পুরোটা ঘরে তোলা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। এভাবে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী এলাকার অন্তত সাত হাজারের মতো পরিবারের প্রায় ২০ হাজার স্থানীয় বহুমুখী সমস্যা ও সংকটে মূখে পতিত।

খালের দুইপাড়ে, উজানে সমতলে, পাহাড় ও টিলায় সারি সারি রোহিঙ্গা বসতি। এই আশ্রিতদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য ময়লা-আর্বজনা, মল-মূত্রসহ সব ধরণের আবর্জনা-বর্জ্য এইখাল দিয়ে ভেসে আসছে। এতে খালের পানি কালো হয়ে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এখানে চাষাবাদ তো দূরের, কথা পরিবেশ বিপন্ন হয়ে টেকা দায় হয়ে পড়ছে। একই অবস্থা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা মধূরছড়া-তেলীপাড়া খাল, মাছকারিয়া খাল, মধূরছড়ার হাতির ডেরা ছড়া, বালুখালী খালের। এর চেয়ে খারাপ অবস্থা থাইংখালী খাল, তেলখোলা-লোন্ডাখালী খাল, পালংখালী খালের উপর অংশ ও সংলগ্ন ক্যাম্প এলাকার আরো বেশ কয়েকটি খাল, ছড়া, আবাদী জমির। এসব স্থান এখন রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

উখিয়ার ঘাট তেলি পাড়া এলাকার মো. সোনা আলী, আবুল হোসেন, গিয়াস উদ্দীনসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দুই বছর আগেও তেলিপাড়া খালটি এলাকাবাসীর কাছ আর্শীবাদ ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিশ্রী বর্জ্যের কারণে এ খালটি এখন স্থানীয়দের জন্য ব্যবহার অনুপযোগী ও অভিশাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন খালে আর মাছ ধরা যায় না।

একইভাবে কাস্টমস এলাকার বাদশা মিয়া, শামসুল আলম, বালুখালীর ফরিদ সওদাগর, ইয়াকুব আলী, কবির আহাম্মদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে বালুখালীর দক্ষিণ খালে বাঁধ দিয়ে বোরো আবাদ হতো। রোহিঙ্গাদের কারণে গত বছর জমিগুলো খিল পড়ে ছিল, চাষাবাদ করা যায়নি। এ বছরও খালে বাঁধ দিয়ে ভূ-উপরিভাগের পানি নিয়ে চাষাবাদ, খেত, খামার করা সম্ভব হয়নি। তারা বলেন, নলকূপ স্থাপন করে বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে এবছর কিছু জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়।

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তারা জানান, এত কষ্ট করে, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে চাষ করেও ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে না। কারণ খাল ও ছড়া বেয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কুৎসিত, দূষিত বর্জ্যগুলো স্থানীয়দের দুুুই তিন ফসলী আবাদ জমিতে পড়লে ধান জ্বলে-পুড়ে বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীসহ ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বলেন, মানবতাকে সম্মান জানাতে বিপুলসংখ্যক মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় প্রদান করা হয়। কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি দিনে দিনে কেমন যেন অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। স্থানীদেয় অভিযোগ ও সমস্যা পুরোপুরি সমর্থন করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার লোকজন গত দুই বছর ধরে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী লালন পালন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। একদিকে গো চারণ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের ঘর, খাদ্যের চরম সংকট; অন্যদিকে রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী চুরি করে জবাই করে খেয়ে ফেলছে। কোথাও গিয়ে প্রতিকার পাচ্ছেন না। স্থানীয়রা কষ্ট করে চাষ বাস করলেও পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। তিনি অভিযোগ করেন, উখিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন কার্যক্রম না থাকায় রোহিঙ্গা কর্তৃক পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে দেখাশুনার মত তেমন কেউ নেই।

জানতে চাইলে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গা দৈনন্দিন ময়লা, আর্বজনা ও বর্জ্যরে পাশাপাশি প্রায় আট হাজার একর জুড়ে পাহাড়, টিলা উজাড় করা এবং এসবের মাটি বর্ষার পানিতে ধূয়ে আছড়ে পড়বে সংলগ্ন পাহাড়ী ছড়া, খাল গুলো ও সমতল আবাদী জমিতে। এতে আগামী বর্ষাকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্লাবনের সম্মুখীন হতে পারে স্থানীয় লোকজন। এসব পাহাড় ও টিলা উজাড় করে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশী-বিদেশী এনজিওগুলো ইচ্ছে মত স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখলেও এক্ষেত্রে স্থানীয় বন কর্মীরা অসহায়ত্ব বোধ করা ছাড়া বিকল্প কিছু করার নেই বলে বন কর্মীরা জানান।

"