রফতানিও হতে পারে কবিরহাটের পান

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

জেলার কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুরের মির্জানগরে ফলিত পানের বরজের প্রাকৃতিক শোভা যে কারো নজর কাড়ে। জেলা সদর থেকে ওই গ্রামের পথ হয়ে পাশ^বর্তী কবির হাট উপজেলায় যেতে চোখে পড়ে পান চাষেরা নান্দনিক ও নয়নাভিরাম সৌর্ন্দয্য। চারপাশে বাঁশের নিরাপত্তাজনিত ঘেরা। বরজের মাটি থেকে ৮/১০ ফুট ওপরে হালকা পরিসরে রয়েছে বাঁশের ছাউনী। যা সূর্যের অতি বেগুনীরশ্মি থেকে পাতাকে শীতল রাখতে সক্ষম হয় অনায়াসে। এ সময় একাধিক পান চাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের দৈনন্দিন বরজের ফলিত পান বিকিকিনির নানা চালচিত্র।

এলাকার ষাটোর্ধ্ব মাখন লাল জানান, বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা এ পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বর্তমানে ৩০ শতক জমিতে স্থায়ীভাবেই পান চাষ করছেন মাখন। প্রতি সপ্তাহে পাইকারী বাজারে বিক্রয় করছেন এসব পান। এ বরজ থেকে কমপক্ষে ৫০ ভিঁড়া পান প্রতি সপ্তাহে পৌছে যাচ্ছে গ্রাহকের কাছে। প্রতিটি ভিঁড়া ১৭০ থেকে শুরু করে ১২০ টাকায়ও বিক্রয় করছেন তারা।

গাজিপুর থেকে এ পানের লতা সংগৃহিত হওয়ার কারণে এ পানকে গাজিপুরী বলেও পরিচিত দিয়েছেন মাখন ও অন্যান্য চাষিরা। তারা বলেন, শুধু এ গ্রামেই কমপক্ষে ৩০টি হিন্দু পরিবারের একমাত্র পেশা পানের বরজ। তবে উৎপাদনের পেছনে খরচও রয়েছে প্রচুর। নিয়মিত পরিচর্যা ছাড়াও ডুলি বাঁশ ও খৈলের দাম বেশি হওয়ায় এবং পানের পরিচর্যায় সপ্তাহের ১/২ জন লোক খাটতে হয়। প্রতিটি লোকের পেছনে পাঁচশত টাকা বেতন দিতে হয়। বছরে দু’বার বরজে লতা লাগাতে হয় বলে জানান মাখন। এ সময় টিএসপি, ইউরিয়াসহ কিছু সার ব্যবহার করতে হয়। তিনি দাবি করেন, এখানকার পান দেশ বিদেশেও প্রশংসিত। তিনি বলেন, এতো পান তো শুধু দেশেই খায়না। বিদেশেও যায়। একই সাধে দাবি করেন, সরকারীভাবে প্রণোদনা পেলে দেশীয় বরজের পান এ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম বলেন, এ জেলায় ১৫০০ একর জায়গায় পানের বরজ রয়েছে। উপজেলার ২১০ টি পরিবার সরাসরি এ পেশায় সম্পৃক্ত। শুধু নরোত্তমপুর নয়, চাপরাশির হাট ও সুন্দলপুরের কিছু এলাকায়ও পান হয়। এসব উৎপাদিত পানের সুনাম পুরোদেশেই রয়েছে। এছাড়া, প্রাকৃতি দূযোর্গে ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষিরা সরকারী সহায়তা পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

 

"