নাঙ্গলকোটে নেক ব্লাস্ট আক্রান্ত ইরি-বোরো

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নাঙ্গলকোট (কুমিলা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুমের ফসলি জমিতে ব্যাপক আকারে নেক ব্লাস্টের (শীষ পচা রোগ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ধান পাকার আগ মুহূর্তে ধানখেত নষ্ট হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, নেক ব্লাস্ট রোগ থেকে ধান খেত রক্ষায় কৃষি অফিসে বার বার ধরণা দিয়েও উপসহকারী কৃষি অফিসারদের মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ বলছেন উপসহকারী কৃষি অফিসারদের চেনেন না তারা। এই সুযোগে ধানের সব রোগের সমস্যা সমাধানের পরামর্শ নিচ্ছেন স্থানীয় সার ও কীটনাশক দোকানের মালিকদের কাছ থেকে। এ কথা জানান বড় ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রেজ্জাক, আব্দুল খালেক ও দুলাল।

বৈশাখের প্রথমদিকে চারদিকে বাতাসে সোনালী ধান দেখার কথা। জমিতে ধানের ছড়াগুলো বের হয়ে ঝাঁক দিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ধান গাছের ওপরের অংশে কালো দাঁগের চিহ্ন পড়ে ধানগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। যা নেক ব্লাস্ট (পঁচা রোগ) নামে পরিচিত। আক্রান্ত ধান চিটা হয়ে গেছে। গাছগুলো আগাম কেটে ফেলছে, পশুখাদ্য বানাতে। এ নেক ব্লাস্ট রোগ (পঁচা রোগ) আক্রমণের ৪-৫ দিনের মধ্যে সব ধান চিটা হয়ে যায়।

কয়েক দিন ধরে উপজেলার মৌকরা ইউপির গোমকোট, রায়কোট ইউপির পিপড্ডা, বেকামলিয়া, বাংগড্ডা ইউপির পরিকোট, ঢালুয়া ইউপির শিহর, মঘুয়া, জোড্ডা ইউপির জোড্ডা, আদ্রা ও হেসাখাল সহ বেশ কয়েকটি এলাকার ফসলি মাঠ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সব এলাকাতেই নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

পিপড্ডা গ্রামের আব্দুর রশিদ ও শরীফ আহমেদ বলেন, ‘তারা তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছে। পুরো খেতই নষ্ট হয়ে গেছে। জমির মালিককে আট মণ ধান দেওয়ার কথা। ধান চাষ করতে ধারদেনা করেছি। এখন সেই টাকা শোধ দেব কীভাবে, আর জমির মালিককে ধান দেব কীভাবে?’ মৌকরা ইউপির উপসহকারী কৃষি অফিসার আমিনুল হক জানান, ‘নেক ব্লাস্ট রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা দুই মাস ধরে কৃষক পর্যায়ে সভা করছি। লিফলেট বিতরণ করে কৃষকদের মাঝে করণীয় তুলে ধরছি। এ ছত্রাক থেকে রক্ষা পেতে নাটিভো, ফিলিয়া, বাস্টিন, টাটাভো জাতীয় ছত্রাক নাশক ধানখেতে ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ তবে ফসলি মাঠে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো ইউনিয়নে তিনি একজন অফিসার। যার ফলে ইউনিয়নের এক এলাকায় গেলে অন্য এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয় না।’

উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল হক বলেন, এ বছর ১২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। তবে নেক ব্লাস্ট উপজেলার খুব বেশি ধানখেতকে ক্ষতি করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। উপ-সহকারি কৃষি অফিসাররা মাঠে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার কৃষিবিদ মো. আসিফ ইকবাল বলেন, রাতে শীত আর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে এ ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। বাতাসের সঙ্গেও ব্লাস্ট রোগ ছড়াতে পারে। এ কারণে কৃষকদের ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার আগেই খেতে ছত্রাকনাশক ঔষুধ ছিটানোর জন্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, মাঠে উপ-সহকারি কৃষি অফিসারদের পাওয়া না গেলে ১৩৩৩ নাম্বারে কল দিয়ে নিকটস্থ উপ-সহকারি কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিসারদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারবেন।

কুমিল্লা জেলা ধান গবেশনা বেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগ ধানে আক্রমনে ৪-৫ দিনের মধ্যে পুরো জমিতে আক্রন্ত হয়। এ রোগ যাতে না হয়, সে জন্য কৃষকদের ধান রোপার পর তিন ধাপে ছত্রাকনাশক ওষধ ব্যবহার করতে হবে।

 

"