বীজ উৎপাদনে সমৃদ্ধ মেহেরপুরের কৃষক

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুর। ইতিহাস ঐতিহ্যে বরাবরই কৃষিতে সমৃদ্ধ এ জেলা। বন্যামুক্ত এ জেলার জমি সমতল হওয়ায় মাটি অনেকটাই উর্বর। ফলে আবহাওয়া কৃষির জন্য অধিক উপযোগী। সব ধরনের বীজ উৎপাদন করার অপার সম্ভাবনা থাকার কারণে দেশের একমাত্র সরকারি বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিএডিসির ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১৩টি অফিস রয়েছে। এ জেলায় রয়েছে বিএডিসির প্রায় ১০০০ একরের ৫টি বীজবর্ধন খামার। কৃষিতে সমৃদ্ধ এ জেলার বিএডিসি সরকারিভাবে ধান, গম, আলু, পাট, ডাল, তেলসহ সব ধরনের ফসলের ভিত্তি প্রত্যায়িত ও মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন করে থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৭ একরের হর্টিকালচার সেন্টারটি সদর উপজেলার বারাদীতে অবস্থিত। এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ফল, ফুল, শাক-সবজির চারা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন বীজ উৎপাদন কোম্পানীগুলোও বিভিন্ন ধরণের মান সম্পন্ন বীজ তৈরি করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ বীজ চাহিদার বেশিরভাগ পূরণ হয়ে থাকে মেহেরপুরের কৃষকদের উৎপাদিত বীজের মাধ্যমে।

সদর উপজেলার দিঘিরপাড়া, কালাচাঁদপুর, হরিরামপুর, বুড়িপোতা, শালিকাসহ জেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠজুড়ে সব ধরণের বীজ উৎপাদন কার্যক্রম আছে। পৌর ব্লকের ৯০০ হেক্টর চাষযোগ্য জমির মধ্যে এক তৃতীয়াংশ জমিতে করা হয়েছে শুধুই লালশাক ও পালংশাকের বীজ। কৃষক পর্যায়ে ভাল মানের বীজ উৎপাদন, বিতরণ ও সংরক্ষণ করবার কাজে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানানভাবে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়ে থাকে।

সদর উপজেলার কালাচাঁদপুর এলাকার চাষী মনিরুল ইসলাম ও দবির উদ্দিনের সাথে কথা বলা জানা গেল, তারা এসব সবজি বীজ উৎপাদন করেন বেসরকারি বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের জন্যে। বীজ উৎপাদন করা যেকোন ফসল থেকে এখন অনেক বেশী লাভজনক।

চাষীদের সাথে কথা বলা জানা যায়, ৬ মাসে তারা পুঁইশাকের বীজ আবাদ করে এক বিঘা জমি হতে নীট মুনাফা পান ৪০-৪৫ হাজার টাকা। লালশাকের বীজ করে এক বিঘা জমি হতে তিন মাসে নীট মুনাফা ২৫-৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ধান গম চাষে এমন লাভ পাওয়া যায় না। তাই মেহেরপুর সদরের কাঁলাচাঁদপুরের কৃষকেরা এখন ব্যাপকহারে সবজি বীজ উৎপাদন করে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের কৃষক মো. রিমন হোসেন জানান, পালংশাক বীজ উৎপাদনে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৪-৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ১০-১২ মন বীজ উৎপাদন হয়। খরচ বাদে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হয় পালং শাক বীজে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আক্তারুজ্জামান জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমাদের সকল স্তরের সম্প্রসারণ কর্মীরা নিরন্তর কৃষকদের পাশে থেকে নির্বিঘেœ ভালমানের বীজ উৎপাদনে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি ও অনান্য কারিগরী সহায়তা আমরা সবসময় অব্যাহত রেখেছি। কৃষি প্রধান এ জেলার কৃষি বাংলাদেশের একটা প্রতিবিম্ব।

 

"