কসাইয়ের কথাই ‘মৌখিক সনদ’ অ্যানথ্রাক্স রোগের আশঙ্কা

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীফামারীর সৈয়দপুর শহরে রাস্তার উপর জবাই করা হচ্ছে পশু। জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে কসাইয়ের কথাই ‘মৌখিক সনদ’ হিসেবে চলছে মাংসের কারবার। গত মঙ্গলবার সড়কের সুড়কি মিল সংলগ্নসহ বেশ কয়েকটি এলাকা গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাব ও দীর্ঘদিন ভেটেরিনারি সার্জনের পদটি শূন্য থাকায় এই অবস্থা চলছে বলে পৌরবাসীর অভিযোগ। এতে এ্যানথ্রাক্সসহ জটিল রোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, নোংরা পরিবেশে বা যেখানে-সেখানে পশু জবাই বন্ধ এবং চিকিৎসকের সনদ ছাড়া পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণে ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট আইন করা হয়। এ আইন অমান্যকারীকে ভ্র্যাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কমপক্ষে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদ- বা ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদ- দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এদিকে, পৌর এলাকায় যেসব গবাদী পশু জবাই করা হবে সেগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন পৌরসভায় কর্মরত ভেটেরিনারি সার্জন। কম বয়সী ও অসুস্থ্য গবাদীপশু জবাই করলে অর্থদন্ডের বিধার রয়েছে। সার্জন না থাকায় তা করা হচ্ছে না। সৈয়দপুর পৌরসভার স্বাস্থ্য শাখার প্রধান আকমল হোসেন রাজু জানান, পৌর মেয়র ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ দিচ্ছেন না বলে তিনি এসব তদারকী করতেন। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় সেদিকে যাওয়ার সুযোগই হয় না। এর ফলে সাব্বির নামের এক কর্মচারীকে পশু জবাইসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সীল মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার সুড়কীমিল এলাকায় থাকা কসাইখানাটি বন্ধ করে দেওয়ায় রাস্তার উপরই প্রতিদিন ৫০-৭০টি গবাদী পশু জবাই করা হচ্ছে। এসব পশুর কোনটি সুস্থ্য, কোনটি অসুস্থÑসেদিকে কারো তদারকি নেই। এছাড়া শহরের আনাচে-কানাচে জবাই করা হচেছ শতাধিক পশু। পৌর কর্তৃপক্ষ পশু প্রতি ২০-২৫ টাকা আদায় করলেও ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগসহ স্বাস্থ্য সম্মত কসাইখানা নির্মাণে উদ্যোগ নেই তাদের।

পৌরসভার সাবেক ভেটেরিনারী সার্জন আব্দুল রাজ্জাক জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ সরকারের আইনকে তোয়াক্কাই করছেন না। এর ফলে সুস্থ্য পশুর সাথে অসুস্থ পশুও জবাই করা হচ্ছে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গরমের এই মৌসুমে অসুস্থ্য পশুর মাংস খেয়ে এ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভ্যাটেরিনারি সার্জনের পদ শূন্য থাকার কথা স্বীকার করে পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক জিয়া বলেন, শূন্যপদটি পূরণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবরে আবেদনও করা হয়েছে দীর্ঘদিন আগে। কিন্তু অদ্যবধি অনুমোদন মেলেনি।

 

"