হস্তশিল্পে স্বাবলম্বী সৈয়দপুরের বেবী

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মো. জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার মাহফুজা বেগম বেবীর স্বামী ইউনুস আলী একজন ঘড়ি ব্যবসায়ী। একটি মাত্র মেয়ে তার। মেয়েটি পড়াশুনা করে সৈয়দপুর আর্মি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে তাদের পরিবার স্বচ্ছল। তবুও তিনি চিন্তা করে আসছেন নিজ সংসারের পাশাপাশি কিভাবে শহর ও গ্রামের সহজ সরল অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা নির্যাতিত ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বি করা যায়। এরই অংশ হিসাবে তিনি বিগত ১০ বছর আগে কনসার্ন বাংলাদেশ (এনজিও) থেকে ক্রুশ কাটায় প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ওই প্রশিক্ষণের ৫ বছর পর শহর ও গ্রামের ২০ জন নারীকে নিয়ে নিজ ঘরেই আস্থা নামকরণ দিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি। এর পর শুরু করেন সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া। দিন দিন নারী উদ্যোক্তা মাহফুজা বেগম বেবীর এ কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে তার বাড়ীতেই ৫০ জন নারী নিয়ে গঠিত হয় আস্থা সংগঠন। সংগঠনের এসব নারীদের হাতের তৈরি ক্রুশ কাটার পোষাক ও বাজারজাত শুরু করেন তারা।

সৈয়দপুর উপজেলা গ্রাম ও শহরের একাধিক মহল্লায় গিয়ে দেখা যায় মাহফুজা বেগম বেবীর গঠিত সংগঠনের নারীরা নিজ ঘরে বসেই তৈরি করছেন আকর্ষণীয় শাড়ীর কাজ। এর সাথে ফতুয়া, টু পিছ, থ্রী পিছ, বেডসীট, ওড়না, সোফা কভার, সোফা ব্যাগ, কুশন কভারসহ নকশী কাথা। সংগঠনের দেওয়া ডিজাইন বা অর্ডার দেওয়া ডিজাইনে তৈরি করা হচ্ছে ওই সব মালামাল। বিভিন্ন ডিজাইনে তৈরি করা কাপড়গুলো নিজ উপজেলাসহ দেশের বৃত্তবান ও জেলার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন।

ক্রুশ কাটার শিল্পিরা জানান, সংসারের কাজ করার পর হাতে অনেক সময় থাকে তাদের। মাহফুজা বেগম বেবীর কারণে সে সময়টুকু কাজে লাগিয়ে মাসে কমপক্ষে ৭/৮ হাজার টাকা আয় করছেন তারা। আয়কৃত টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করাচ্ছেন। অনেকেই ভিটেমাটি কিনেছেন। কেউবা ওই টাকা রেখেছেন ব্যাংকে। তারা বলেন, আরো উন্নত প্রশিক্ষণ ও সংগঠন প্রধানের হাতে সরকারিভাবে এককালীন মোটা অংকের অর্থ দেওয়া হলে ঘরে বসেই তারা অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।

রংপুর থেকে আসা লাইলী ও নীলফামারী থেকে আসা মরিয়ম জানান, আস্থা নামের সংগঠনের পণ্যগুলো সবই আকর্ষনীয়। এছাড়া মূল্যও হাতের নাগালে রয়েছে বলে পণ্যগুলো কিনতে এসেছেন তারা।

নারী উদ্যাক্তা মাহফুজা বেগম বেবী জানান, তার উদ্দ্যেশ্য হলো শহর ও গ্রামের সহজ সরল অসহায় নির্যাতিত ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বি করা।

সৈয়দপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সামসুন নাহার শাহজাদী জানান, মাহফুজা বেগম বেবীর প্রশিক্ষণ দেওয়া কাজগুলো আকর্ষণীয়। এ নারীর প্রচেষ্টায় শহর ও গ্রামের নারীরা ক্রুশ কাটার কাজ করে নিজেরাই স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা করছেন। আস্থা সংগঠনের প্রধান মাহফুজা বেগম বেবীর হাত আরো শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও তাকে মোটা অংকের অর্থ দেওয়া। তাহলে সব নারীরই আয় বেড়ে যাবে। তাদের সংসারে ঘটবে উন্নতি এবং সাফল্য আসবে।

 

"