ইবিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে এক দিকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার যেমন সমস্যা হচ্ছে তেমনি বিদ্যুতের হঠাৎ যাওয়া আসায় শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ, ডেক্সটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীও নষ্ট হচ্ছে।

গ্রীষ্মের গরম শুরু না হতেই বিদ্যুতের লুকোচুরিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হলে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে তারা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ ছিল না। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হলেও অত্যধিক চাপের কারণে সাদ্দাম হোসেন হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি প্রকৌশল দপ্তরে জানানোর পরেও বিদ্যুৎ না আসায় রাত ১১টার দিকে জিয়া মোড় এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের টিএসসিসি, ডায়না চত্ত্বর, প্রশাসন ভবন প্রদক্ষিণ করে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর বাস ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সেখানে অস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক শ্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আকরাম হোসেন মজুমদার, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন হলের হাউজ টিউটর প্রভাষক শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এরপর তারা আগামীকালের (শনিবার) মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ^াস দিলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যায়।

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুলের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যেখান থেকে বিদ্যুৎ নেই ওই ফিডারে আগুন লেগেছিল। যে কারণে সাময়িক এই গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন ওই ফিডারে রিপ্লেসমেন্টের কাজ চলছে। আশাকরি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

হলে জেনারেটর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেনারেটর লোড টানতে পারছে না। অত্যাধিক চাপ পড়ার কারণে বার বার সুইচ পড়ে যাচ্ছে। ফলে হয় লোড বাড়াতে হবে, নয়তো রুমে রুমে নেয়া লাইনগুলো খুলে দিতে হবে। তাহলেই একটানা পাওয়ার সাপ্লাই দিতে পারবে।’

 

"