অষ্টমী স্নানোৎসব ও চৈত্রসংক্রান্তি পালন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র হে লৌহিত্য তুমি আমার পাপ হরণ কর’ পবিত্র এ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব। এছাড়াও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে শিবপূজা চলে নদীর তীরে।

জনশ্রুতি আছে, হিন্দু দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে গোসল করে পাপমুক্ত হন। লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে এ পানিকে ব্রহ্মপুত্র নদরূপে নামিয়ে আনেন সমভূমিতে। সমভূমিতে আনার পর তিনি যেখানে এসে লাঙ্গল থামিয়ে বা বন্ধ করে বিশ্রাম নেন। পরে লাঙ্গলবন্ধ কালের বিবর্তনে লাঙ্গলবন্দে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হলেও গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয় ¯œাণোৎসব। আজ (রোববার) রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালীগঞ্জে ¯œানোৎসবে প্রায় ৪০ হাজার শিশু-নারী-পুরুষ ভক্তের সমাগম ঘটেছে। কালীগঞ্জ পৌর কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিজেদের পাপমোচনের লক্ষ্যে বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নাণোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে শনিবার সকালে দেখা গেছে, বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব পালনের জন্য উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদে নিজেদের পাপমোচনে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল নেমেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিশু-নারী-পুরুষ এতে যোগ দেয়। ভক্তবৃন্দরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে ¯œানোৎসবে অংশ নেন। আর এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মত।

কালীগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রণম কুমার দাস জানান, এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় ৪০ হাজার শিশু-নারী-পুরুষ যোগ দেয়।

ওসি মো. আবুবকর মিয়া জানান, বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী ¯œান। শনিবার সকালে শহরের বেউথা কালীগঙ্গা নদীতে তিথি অনুসারে ¯œান শুরু হয় সকাল ৬টায় এবং চলে ৯টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এতে ফুল, ফল, কলা, বেল পাতাসহ চন্ডী পাঠ করে নিজেদের পাপ মোহন, মনের আশা পূরণ, নিজেকে পবিত্র ও পুণ্য লাভের আশায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা গঙ্গার ¯œানে অংশ নেয়। নদীর পাড়ে অস্থায়ী মন্দিরেও চলছে দিনব্যাপী গঙ্গাপূজা।

এছাড়ও চৈত্র সংক্রান্তির শিবপূজাও চলছে নদীর তীরেই। বসানো হয়েছে দেল ঠাকুর। এ সময় ভিড় করে মানিকগঞ্জ জেলাসহ ঢাকা, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ ও শরিয়তপুরসহ আশপাশের জেলার হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী নর-নারী। আর নদীর পাড়ে বিন্নি, বাতাসা, মিষ্টি-মিঠাইসহ শিশুদের বিভিন্ন খেলনার পসরা নিয়ে শতাধিক স্টলে বসেছে দিনব্যাপি গ্রামীণ মেলা। মেলায় ভিড় করছে হিন্দু-সুল্লিমসহ নানা ধর্মের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র গাজী কাজরুল হুদা সেলিম, জেলা আ.লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপলে, সাংগঠানিক সম্পাদক সুদেব কুমার সাহা, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড. অসীম কুমার বিশ^াস, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বিশ^াস উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রাম : চৈত্র মাসের শুকলো পক্ষের অষ্টম তিথীতে প্রতি বছরের ন্যায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্টমী ¯œান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ব্রহ্মপুত্রের তীরে রাজার ভিটা এলাকায় এ ¯œান অনুষ্ঠান উৎযাপন করেন পূণ্যার্থীরা।

পাপ মোচনের আশায় বৃহত্তর রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ¯œান উৎসবে অংশ নেন।

অষ্টমীর ¯œান কমিটির আহবায়ক বিষু চন্দ্র বর্মন জানান, সূর্যদয় থেকে ৯.৪৯ মিনিট পর্যন্ত ¯œান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের লক্ষাধিক পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করে। ইউএনও শাহ মো. শামসুজ্জোহা জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ¯œান অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পূজা পার্বনের মধ্য দিয়ে চলে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব। একখন্ড পাটবান মাথায় নিয়ে পূজারিরা গ্রামের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে। পরে নেচে গেয়ে শিবের আরাধনা করে। পূজারিরা শিব ও গৌরী সেজে দুজন নৃত্য করে। তাদের সাথে অন্যরা গণ, প্রেত, নন্দী, ভৃঙ্গি সেজে নাচ করে। এসময় গাওয়া হয় শিবের আরাধনামূলক ভক্তি গান।

ভোলা : ভোলার তুলাতলি শাহবাজপুর পর্যটন কেন্দ্রে সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্রে স্নান উৎসব এর আয়োজন করে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও ওর্য়াল্ড হিন্দু ফেডারেশন। সকাল ৬ টা থেকে ৮টা পর্যন্ত চলে এ স্নান উৎসব। এতে অংশ নিতে জেলার দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে সনাতন ধর্মের অনুসারীরা।

 

"