শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী

প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে শিবচরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী মাদারীপুরে শিবচরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনসহ কমপক্ষে আড়াইশ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্র্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী শরীয়তপুর অংশের একটি চক্র।

নতুন করে অবৈধ স্থাপনা রোধে মাদারীপুরের নতুন প্রস্তাবিত এলাকায় আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে অবৈধ ঘরবাড়ি উঠানোর দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। এতে জেলার সাধারণ জনমানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূর মোহাম্মদ সজল জানিয়েছেন, গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী’ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর করেন। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। প্রকল্পটির জন্য জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে ৬০ একর ও শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় ৪৮ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রকল্পে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনে প্রত্যেক তাঁতীর জন্য ৬০০ ফুটের কারখানা ও ৮০০ ফুটের মধ্যে আবাসন সুবিধা থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে সুতা রংসহ কাঁচামালের সুবিধা দেয়া হবে। নির্মাণ হবে আন্তর্জাতিক মানের শো-রুম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তাঁতীদের ছেলে মেয়েদের জন্য থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরো জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন থেকে সাম্প্রতি সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে রেকর্ডীয় জমি মালিকদের দাগ ভিত্তিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। এমন তথ্য শরীয়তপুরের নাওডোবা ও কুতুবপুরে ছড়িয়ে পড়লে ওই জমির মালিক ও এক শ্রেণীর দালাল চক্র ঘরসহ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ লাগানো শুরু করে। প্রতিদিন শত শত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয় ক্ষতিপূরণের বাড়তি বিলের আশায়। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

পরে গত ১৩ মার্চ শিবচরের কুতুবপুর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবার শতশত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন। ফলে সরকারের শতশত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৪ মার্চ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় প্রকল্পটি মাদারীপুরের শিবচরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভা হয়েছে। শিবচরের অংশের ঘরবাড়ি প্রশাসন ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু শরীয়তপুরে প্রশাসন এই ধরনের কোন কর্মকা- গ্রহণ করেনি। তাছাড়া দুই জেলায় প্রকল্প হলে, আইন শৃংখলাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরী হবে। সভায় সকলের সম্মতিতে ‘শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী’ মাদারীপুরের শিবচরে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, নতুন প্রস্তাবিত এলাকায় যাতে কেউ অবৈধ ভাবে ঘরবাড়ি তৈরী করতে না পারে; সেজন্য আমরা সার্বক্ষনিক আনসার মোতায়েন করেছি। তাছাড়া এক জেলার ভেতরে হলে প্রশাসনিক ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে কোন জটিলতা সৃষ্টি হবে না। এত সরকারের কমপক্ষে আড়াইশ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

 

"