কুড়িগ্রামে জলমহাল ইজারা বন্দোবস্তে গড়িমসির অভিযোগ

সরকারের রাজস্ব হারানোর শঙ্কা

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে জলমহাল নীতিমালা উপেক্ষা করে অমৎস্যজীবীদের ইজারা বন্দোবস্তের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভেরভেরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতারা। তবে প্রশাসন বলছে, সমিতির সদস্যরা সবাই মৎসজীবী কিনা তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে এই সমস্যা হচ্ছে।

অভিযোগ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ইলশামারীর কুড়া জলকরসহ মোট ৮টি জলমহালের ইজারা বন্দোবস্ত আহ্বান করে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটি। ইলশামারীর কুড়া জলকর এর সরকারি ইজারা মূল্য ২ লাখ ২৬ হাজার ২৭৫ টাকা নির্ধারিত ছিল। দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা পর্যন্ত। এদিন বিকাল ৩টায় দরপত্র বাক্স খোলা রাখা হয়। এতে ইলশামারীর কুড়া জলকর বন্দোবস্ত গ্রহণে ৩টি মৎস্যজীবি সমিতি দরপত্রে অংশ নেয়। কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ভেরভেরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি. সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চূড়ান্ত হয়। কিন্তু ইজারা বন্দোবস্তের সময় অতিক্রম করলেও আজোবধি সমিতিকে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এতে দরপত্রে অংশ নেওয়া নদী তীরবর্তী প্রকৃত মৎসজীবীরা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে সমিতির নেতাদের অভিযোগ। আর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাতে বসেছে সরকার।

ভেরভেরী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আক্কাছ আলী বলেন, এই সমিতির প্রতিটি সদস্য প্রকৃত মৎস্যজীবী। যাদের প্রত্যেকেরই সরকার কর্তৃক নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র রয়েছে। জানি না কি কারণে আমাদের সাথে টালবাহনা করা হচ্ছে?

জানতে চাইলে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটি এবং ইউএনও আমিন আল পারভেজ জানান, চূড়ান্ত সর্বোচ্চ দরদাতা মৎস্যজীবী সমিতি প্রকৃত মৎস্যজীবি কিনা তা তদন্ত করতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে খতিয়ে দেখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি আমাকে যে তদন্ত ভার দিয়েছেন, তা যাচাই-বাছাই করে পহেলা বৈশাখের আগেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

 

"