হবিগঞ্জে চৈত্রের বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে আধাপাকা ধান

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের আধা পাকা ধানের জমি। হাওরের নি¤œাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। চৈত্রের অকাল বন্যার আশংকা কৃষকদের মধ্যে হতাশার চাপ যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জানা যায়, গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলার প্রায় কয়েকশত একর নি¤œাঞ্চল জমির কাচা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও আরো কয়েকশত একর জমি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম প্রায়। আবার সামান্য বৃষ্টি হলেই কোন কোন জমির ধান তলিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বলছেন, গত কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিতে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আর এসব নদ-নদীর পানি বিভিন্ন খাল বিলের মাধ্যমে হাওরে প্রবেশ করছে। এছাড়া বৃষ্টির পানিও হাওরে জমা হচ্ছে। ফলে হাওরের নিচু জমিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। অনান্য বছর বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে এসে বন্যা দেখা দেয়। এ সময় জমির ধানগুলো অধিকাংশই পেকে যায়। ফলে পানিতে ডুবে যাওয়া কিছু ধান কেটে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু এ বছর যে জমিগুলো পানিতে ডুবে গেছে সেগুলোন ধান সম্পূর্ণ কাচাঁ। ফলে কাটার কোন উপায় নেই।

এ ব্যাপারে কৃষক হরিপদ দাস বলেন, আমার অনেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। গত দুই বছর চাষ করেও কোন ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এ বছরও যদি একই অবস্থা হয় তাহলে আমাদের না খেয়ে মরা ছাড়া কিছু করার নাই। একই এলাকার কৃষক দ্বিজেন্দ্র দাস বলেন, গত দুই বছরের ঋণই এখনও পরিশোধ করতে পারিনি। এ বছর আবার একই অবস্থা। আমরা হাওরের মানুষদের মরা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।

কৃষক কামাল মিয়া বলেন, অন্য বছর বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা দেখা দেয়। এ বছর চৈত্র মাসেই ধান তলিয়ে গেছে। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছি। সামান্য কিছু নি¤œাঞ্চলের জমি তলিয়েছে। তবে সেগুলো একদম নিচু এলাকার জমি। তাছাড়া কোন বাঁধ ভাঙেনি। কয়েকটি নদী পাড়াপারের রাস্ত ভেঙেছে। তবে এতে হাওরের ধানের বড় ধরণের কোন ক্ষতি হবে না।

 

"