বৃষ্টি হলেই রাস্তা দুটি নদী হয়ে যায়

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মাজহারুল ইসলাম মিশু, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারাবাজারের একমাত্র বাইপাস সড়কে একটু বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে যায়। খানবাড়ি ও আলতাফ হোসেনের বাড়ির সামনের অংশটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা মাঝিয়াইল মাদরাসা রোডের ধারাবাজার প্রবেশ মুখে আকরাম রাইস মিলের সামনের রাস্তাটি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে এলেই পানিতে ডুবে রাস্তা দুটি নদী হয়ে যায়। ‘ভাই আইন্নেরা (আপনারা) সাংবাদিক। বিভিন্ন জাগাত যাইন। মানুষের কষ্টগুলো তুইল্লা ধরেন। আমরার এই রাস্তাডা লইয়া একটু লেহুইন চে, ভাই। তাইলে স্যারেরা আমরার রাস্তাডা ঠিক কইরা দিবো। পোলাপাইন ইস্কুলে যাইতে পারে না। আমরা খুবই কষ্ট।’ গলায় ঝুলান ক্যামেরা দেখে এভাবেই বলছিলেন এই রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতকারী যদু মিয়া।

ধারাবাজারের একমাত্র বাইপাস সড়কটি কিছুদিন আগে ধারা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল হতে প্রায় ২০০ ফুট রাস্তা সংস্কার করা হয়। এই রাস্তা দিয়ে পার্শ¦বর্তী তিন ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে। তাছাড়া প্রতি হাটের দিন সোম ও শুক্রবার ধান মহলে যানজটের কারণে ছোট গাড়িগুলোর চলাচলের একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি এলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারীদের। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাকেই দায়ী করলেন রাস্তাসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম দর্পণ।

কলেজ শিক্ষার্থী রিয়াজ বলেন, বিকল্প রাস্তা না থাকায় গত কয়েক দিন দূষিত পানিতে হেঁটে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই রাস্তাটির ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানায় সে।

এদিকে মাঝিয়াইল মাদরাসা রোডের ধারা বাজার প্রবেশ মুখে আকরাম রাইস মিলের সামনের রাস্তাটিতেও পানি জমে থাকে। কিছুদিন আগে এই রাস্তার কার্পেটিং করা হলেও পানি জমে থাকার ফলে তা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাজারে প্রবেশ মুখে পথচারীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এই রাস্তাটি দিয়ে পার্শ¦বর্তী কৈচাপুর ইউনিয়ন, ধারা ইউনিয়নের কুতুড়া, বাড়ইগাঁও, মাঝিয়াইল, দড়িনগুয়া, মকিমপুর নগুয়া গ্রামের হাজারো মানুষ চলাচল করে। জানাতে চাইলে ধারা ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমদ বিপ্লব বলেন, রাস্তাগুলোতে অতি শিগগিরই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অবগত আছেন। জানতে চাইলে হালুয়াঘাট ইউএনও জাকির হোসেন বলেন, আমি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দুটিতে আমরা অচিরেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

 

"