পঞ্চগড়ে বাড়ছে চা চাষ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

হায়দার আলী, পঞ্চগড়

দেশের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চায়ের চাহিদা। এর সঙ্গে সংহতি রেখে বাড়ছে না চা উৎপাদন। চা রফতানিও এখন তলানীতে ঠেকেছে প্রায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই বিদেশ থেকে চা আমদানি করতে হবে বলে শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই অবস্থা মোকাবিলায় পঞ্চগড়সহ উত্তরের পাঁচ জেলায় ‘এক্সটেনশন অব স্মল হোল্ডিং টি কাল্টিভেশন ইন নর্দান বাংলাদেশ’ নামের ৫ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড।

চা বোর্ড বলছে, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনেক বেশী পুরাতন চা গাছ সরিয়ে উন্নত জাতের চা চারা রোপন এবং উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় নতুন জমিতে চা আবাদ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চা বোর্ড। প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় ১ হাজার ২৩৫ একর জমিতে নতুন করে চা চাষ করা হবে। ২০২১ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

উত্তরাঞ্চলে চা চাষ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের চা সেক্টরকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে না আনা, সার ও ডিজেলে ভর্তুকিসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা বঞ্চিত থাকা, পাতার নায্যমূল্য না পাওয়া, ঋণ পেতে জটিলতা ও দীর্ঘসুত্রিতা, সুস্থ সবল চা চারা ও অভিজ্ঞ লোকবলের অভাবে দেশে তৃতীয় চা অঞ্চলে আশানুরূপ চা আবাদের পরিধি বাড়ছে না।

২০০০ সালে দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া পঞ্চগড়ে চা উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৮০ লাখ কেজি। তবে এখানকার চা চাষ অন্য দুটি অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। সিলেট বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারি খাস জমি লীজ নিয়ে চা আবাদ করা হলেও পঞ্চগড়ে স¤পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানার জমিতে চা চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পঞ্চগড় জেলার ৫ উপজেলা ও পাশ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় চা আবাদযোগ্য ১৬ হাজার হেক্টর বা ৪০ হাজার একর জমি রয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তি দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় আরও অনেক চা আবাদযোগ্য জমি রয়েছে।

চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিসের তথ্য মতে, পঞ্চগড় জেলায় চা চাষ হচ্ছে ৩ ক্যাটাগরীতে। ৫ একরের নিচে স্মল গ্রোয়ার্স, ৫ থেকে ২০ একরের মধ্যে স্মল হোল্ডার্স এবং এর চেয়ে বেশি জমিতে এস্টেট। গত বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ৩ হাজার ১৯০ জন স্মল গ্রোয়াস, ১৭ জন স্মল হোল্ডার্স এবং ২৫টি টি এস্টেট ৬ হাজার ৭৯২ একর জমিতে চা চাষ করেছে। পঞ্চগড়ের ১২টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের একটি চা প্রক্রিয়াজাত কারখানায় গত বছর উৎপাদন করেছে ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৮৮ কেজি চা।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের বাহাদী পাড়া গ্রামের চা চাষী সামসুল আরেফিন সোহেল জানান, কয়েক বছর ধরে তিনি ৫ একর জমিতে চা চাষ করেছেন। গত বছর সব খরচ বাদে তিনি লাভ করেছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি বলেন, চা চাষে জমি প্রস্তুত, চারা ক্রয় ও শ্রমিক খরচসহ শুরুতেই অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। এ জন্য স্বল্প সুদে সহজ শর্তে হাইপোথিকেশন লোনের ব্যবস্থা করা গেলে তারা মত অনেকেই অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে চা আবাদ করতে উৎসাহিত হবেন।

একই গ্রামের চা চাষী আকবর আলী বলেন, আগে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা কম থাকায় চাষীরা ন্যায্য মূল্য পেতেন না। বর্তমানে পঞ্চগড়ে অনেক চা কারখানা রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলকভাবে পাতা ক্রয় করার কারণে চা চাষীরা কাঁচা চা পাতার উচ্চমূল্য পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিসের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও এক্সটেনশন অব স্মল হোল্ডিং ট্রি কাল্টিভেশন ইন নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়সহ পার্শ্ববর্তী ৫ জেলায় চা আবাদযোগ্য যে জমি রয়েছে তার চার ভাগের একভাগ জমিতেও চা চাষ হচ্ছে না। তিনি জাানান, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্তমানে ৭ হাজার ৬৪৫ একর জমিতে চা আবাদ হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যে আরো ৫০০ একর জমিতে চা চাষ ছাড়াও অনেকে উদ্ধুদ্ধ হয়ে চা আবাদ করবে। এতে করে আগামী দুই বছরের মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি জমিতে চা চাষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় চা চাষীদের নামমাত্র মূলে চায়ের চারা প্রদানসহ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

 

"