বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মাসুদ রানা, বরিশাল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়াকাটা-বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে বরিশাল থেকে অন্তত ২০টি রুটে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দুটি মহাসড়ক অবরোধ করায় শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়েছেন।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ি, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তারা অবরোধ তুলে নেন। আজ তারা আবার বসবেন বলে শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। সভায় উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গত রাতে আমরা বসে অনির্দিষ্টকালের জন্য মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করি।’ তার ধারাবাহিকতানুযায়ী সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা বরিশাল-কুয়াকাটা ও বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও সেখানে উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক বলেন, ‘তাকে নিয়ে যে লোকাল গেম শুরু হয়েছে সে বিষয়ে এখনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।’

এর আগে গত সোমবার দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের পর উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে লিখিত দেওয়ার দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। বেঁধে দেওয়া সময়সীমা গত মঙ্গলবার বেলা ১টায় শেষ হয়। তার আগে গত ১ এপ্রিল উপাচার্যকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধ করে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে লিখিত কোনো কাগজ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। কোনো ক্লাস, পরীক্ষায় তারা অংশ নেবেন না।

 

"