কাজলা নদীপারের সরকারি গাছ অবাধে বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের খোকসা গ্রামে কাজলা নদীপাড়ের সরকারি গাছ এলাকার প্রভাবশালীরা অবাধে কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে দেড় শতাধীন মেহগনি গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগের তীর স্থানীয় প্রভাবশালী আলম মোল্লা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাজলা নদীর পাড় দিয়ে থাকা বড় বড় মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গাছ কাটার আলামত মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে গাছ কাটার সময় আমঝুপি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা নওজেশ আলী ৪৯টি গাছ জব্দ করেন বলেও জানা গেছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, কাজলা নদীর তীরবর্তী জমির গাছগুলো সরকারি জমিতে। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই মোল্লা পরিবারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনা। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ করলে কিছুদিন আগে অভিযান চালিয়ে ৪৯টি গাছ জব্দ করে নিয়ে যায়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আবারও তারা অবাধে গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করছে। দিনের বেলাতেই বড় বড় গাছগুলো কেটে ট্রলিতে করে নিয়ে যাচ্ছে।

অভিযুক্ত আলম মোল্লা জানান, ক্রয়সুত্রে তারা জমির মালিক। কিন্তু এখনও জমির রেকর্ড না হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ মনে করে গাছগুলো সরকারি। কেটে ফেলা গাছের স্থানে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে কোন সদুত্তর দিতে পারননি তিনি।

আমঝুপি ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, এসিল্যান্ড স্যারের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি আনুমানিক দেড়শ গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তারা ওই জমি নিজেদের দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে পারেনি।

মেহেরপুর সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) সামিউল হক জানান, এর আগে ৪৯টি মেহগনি গাছ ওই জমিতে জব্দ করা হয়েছিল। আবারও গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"