ঈশ্বরগঞ্জে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ : গ্রেফতার ৩

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জে রেলস্টেশন থেকে তুলে নিয়ে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা। পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ঈশ^রগঞ্জের সোহাগী ইউনিয়নের সাবেহ নগর গ্রামের মাহফুজুর রহমান রানা, স্টেশন এলাকার বাবুল মিয়া ও রাজু আহমেদ বাপ্পা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূক্তভোগী কিশোরীর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের একটি এলাকায়। রাজধানীর গুলশান এলাকার রিকশাচালক পিতা সুবাদে মেয়েটি সেখানকার একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন গত শনিবার গ্রামের বাড়ি থেকে লোকাল ট্রেনে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। ট্রেনে মাহফুজুর রহমান রানা নামের এক মাদরাসা ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে ঈশ^রগঞ্জ স্টেশনে নেমে ঘোরাঘুুরি করেন তারা। পরে রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহগামী ট্রেন খুঁজতে দিয়ে দুর্বৃত্তদের খপ্পরে পড়েন।

ঘটনার সময়, রাতে ট্রেন না থাকায় স্টেশন থেকে ফিরতে চাইলে স্থানীয় কয়েক যুবক তাদের গতিরোধ করে। চরনিখলা গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে রোকন মিয়া ‘সন্দেহ হচ্ছে’ জানিয়ে প্রথমে তাদের মোবাইল কেড়ে নেয়। ওই সময় আরো লোকজন জড়ো হলে সটকে পড়ে রোকন। পরে সেখানে হাজির হয় রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা মিন্টু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়াসহ মামুন মিয়া, বাবুল মিয়া, রনি, স্বপন দাস। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুজন মিয়া তার বাসায় পরে তাদের আশ্রয় দেয়। রাতে রানাকে একটি ঘরে আটকে রেখে মেয়েটির হাত বেঁধে পাশবিক নির্যাতন শুরু করে সুজন। পরে স্বপন, বাবুল, রনিও তাকে ধর্ষণ করে। শেষে মাহফুজুরকে বাধ্য করা হয় মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালাতে। বিষয়টি গত রোববার জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সালিশ করে মিটমাট করার চেষ্টা করলে পুলিশ খবর পেয়ে উদ্ধার করে মেয়েটিকে। ঈশ^রগঞ্জ থানার এসআই (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

"