২০ টাকার ভাড়ায় ৪০ টাকা আদায়

কুয়াকাটা সৈকতে বীচ ছাতার ভাড়া আদায়ে অরাজকতা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মো. ইমরান, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বীচ ছাতার নিচে বসলেই পর্যটকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এনিয়ে প্রায়শই ভাড়া আদায়কারীর সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ছেন তারা। অনেক সময় এসব বীচ ছাতার প্রভাবশালী মালিকদের হাতে পর্যটকদের লাঞ্চিত হওয়া ঘটনা ঘটছে।

সমুদ্র জলরাশিসহ প্রকৃতি উপভোগ এবং বিনোদনের জন্য সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম ও পূর্ব পার্শ্বে প্রায় ১০০টি বীচ ছাতাসহ বেঞ্চ পেতে রাখা হয়েছে। এসব বীচ ছাতা ও বেঞ্চর মালিক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিম পাশের ১৫টি বেঞ্চের মালিক কুয়াকাটা পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বেলাল খলিফা, ১১টির মালিক তার ভাই আকাশ খলিফা, ৪০টির মালিক জাহঙ্গীর, সেলিম, মাসুদ, ফজলু খাঁ। ছয় মাস পূর্বেও এসব বীচ ছাতা ও বেঞ্চ প্রতি ঘণ্টায় পর্যটকদের কাছ থেকে নেওয়া হত কুড়ি টাকা। বর্তমানে খলিফা ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন ট্যুরিজমের নামে রিসিভ কেটে আদায় করা হচ্ছে চল্লিশ টাকা।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আভিযোগ, এসব ঘটনায় পর্যটন নগরী কুয়াকাটার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের অভিমত, বীচ ছাতা ও বেঞ্চ মালিকদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণসহ নীতিমালার আওতায় আনা না হলে এর প্রভাব পড়বে কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পে।

ঢাকা থেকে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা পর্যটক জহির জানান, সমুদ্র স্নানের সময় বেঞ্চে জামা কাপড় রেখে যাওয়ায় ঘন্টায় প্রতি চল্লিশ টাকা ভাড়া দাবী করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করলে পরিবারের সামনেই লাঞ্চিত হতে হয়েছে ভাড়া আদায়কারীর হাতে। একই কথা জানান খুলনা থেকে ঘুরতে আসা আবদুর রহমান। তিনি বলেন, এখানে বেঞ্চের ভাড়া অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে এসব দেখভাল করার কেউ নেই।

ছাতা ও বেঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বেলাল খলিফা বলেন, ছাতা ও বেঞ্চ আধুনিক করা হয়েছে। তাই ঘন্টা প্রতি কুড়ি টাকার পরিবর্তে চল্লিশ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

কুয়কাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। যদিও এটি পৌরসভার আওতাভূক্ত নয়, তবুও বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কলাপাড়া ইউএনও মো. তানভীল রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

"