ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

গোয়ালন্দে ফসলি জমি মাটিখেকোদের পেটে

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আমিনুল ইসলাম রানা, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

পদ্মা নদী পাড়ে অবস্থিত জেলা রাজবাড়ী। এই জেলায় প্রতি বছর নদীভাঙনের কবলে পড়ে শত শত পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মাটিখেকোদের অত্যাচার। প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী।

রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত অবৈধ ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি বছর অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে ভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হচ্ছে উপজেলার শত শত পরিবার। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি। রাজবাড়ী জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। তবুও থেমে নেই মাটিখেকোরা। বালু উত্তোলন বন্ধ ও গ্রাম রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করলেও পুনরায় আবার শুরু হয়। উপজেলার উজারচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, ছোটভাকলা ইউনিয়নসহ গোয়ালন্দ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত ড্রেজার ও বেকু দিয়ে দিনের পর দিন মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুলতান শেখ জানান, পদ্মা নদীতে ভাঙতে ভাঙতে আমরা এখানে এসেছি। এখানে আমরা কোনো রকমভাবে বসবাস করছি। কিন্ত এই এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা করে অর্থ আয় করছেন। এখানে ড্রেজিং ও বেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। মাটি উত্তোলনের ফলে ৮০-৯০ ফিট গভীর হয়ে গেছে। বাড়িঘর ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। রাস্তা ফেটে যাচ্ছে। ফসলি জমি নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। এমন অবস্থা হয়েছে আমরা মারা গেলে কবর দেওয়া জায়গাও নেই।

মো. তোরাপ আলী সরদার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘মাটি কাটাদের অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্ত তারা কোনো কথা শুনতে চায় না। এভাবে প্রতি বছর মাটি উত্তোলন করার কারণে নদীভাঙনের শিকার হতে হয় আমাদের। উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে এসে বন্ধ করলেও পুনরায় আবার শুরু হয়। কীভাবে শুরু হয় আমরা বলতে পারব না।’

গোয়ালন্দ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, এ উপজেলাটি নদীভাঙন কবলিত এলাকা। কিন্ত দেখা যাচ্ছে, অনেক এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও বেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। সেজন্য আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে চাচ্ছি যেকোনো ধরনের অবৈধ ড্রেজার চলবে না। এ ব্যাপারে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করা হবে।

 

"