রাঙ্গাবালীতে প্রাথমিকের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সরিয়ে নেওয়ার দাবি

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শাকিল আহম্মেদ, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবনের ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত ধসে পড়ছে পলেস্তারা, ছাদ কিংবা পিলারের বড় বড় রড বের হয়ে কঙ্কালের মত দাঁড়িয়ে আছে জরাজীর্ন ভবন গুলো। এভাবেই ঝুঁকিপূর্ন ভবন গুলোতেই চলে আসছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। শিক্ষার্থীদের প্রতিটি মূহুর্ত কাটাতে হয় ঝুঁকিতে। ছোট খাট প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুরর্ঘটনা। বিদ্যালয় গুলোতে নতুন ভবন গুলো থাকলেও পাশে দাড়িয়ে থাকা পরিতেক্ত ও পুরাতন ভবন গুলো দাড়িয়ে আছে মরন ফাঁদ হিসাবে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুরাতন ভবনগুলো ১৯৭৭সালে নির্মিত হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসি। মেরামত অযোগ্য এবং ব্যবহার অনুপোযগী হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে ব্যবহারের অনুপোযগী ঘোষনা করেন এসব ভবন। এসব ভবনগুলো নতুন ভবন থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ গজ দুরে দাঁড়িয়ে আছে। জানাগেছে উপজেলার কাউখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। হরিদ্রাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গাববুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছোটবাইশদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৬টি বিদ্যালয়ে মৃত্যুকুপ হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে ভবনগুলো। দ্রুত ভবনগুলো সরিয়ে নেয়া দাবি এলাকাবাসীর।

কাউখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ক্লস নিতে হচ্ছে। পুরানো ভবন ভেঙে নতুন ভবন করা হলে পড়ালেখায় শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হয়ে উঠবে।

কাউখালী জুনিয়ার স্কুলের ৮ম শ্রেণি শিক্ষার্থী আইরিন বলেন, এখানে শিশু থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। আমরা সব সময়ে ভয়ে মধ্যে থাকি। যদি এই ভবন সরিয়ে নেয়া হয় তাহলে আমাদের ভাল হয়। হরিদ্রাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক মোকবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই পুরানো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ন এবং মৃত্যু কূপ হিসাবে দাড়িয়ে আছে। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড়ধরনের দুরঘটনা। আমাদের স্কুলের ছেলে মেয়েরা ঝুঁকির ভিতরে থাকে। ভবনটি সরিয়ে নেয়া হয় সেই অনুরোধ জানাচ্ছি।’

হরিদ্রাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি কালাম রাড়ী বলেন, দুইটি নতুন ভবনের মাঝ খানে ১৯৭২ সালে নির্মিত একটি অকেজ ভবন দাড়িয়ে আছে খুব বিপদ জনক ভাবে। এটিকে সরিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ যানাচ্ছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, ১৯৭০ সালের পর নির্মিত সাইকো¬ন সেল্টার গুলো অকেজ হয়ে পরে আছে। এ সাইক্লোন সেল্টার গুলো নিলাম দেয়ার জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসকের তথ্য পাঠিয়েছি। জেলা দৃর্যোগ ব্যবস্থাপনার অনুমোদন সাপেক্ষে মহা পরিচালক দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা এর চুরান্ত আনুমোদন দিবেন। যে কোন মুহুর্তে আমরা এর অকশনের প্রয়োজনীয় কপি পেয়ে যাবো।

 

"