রায়পুরার খরস্রোতা কাঁকন নদী এখন সরু খাল

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরায় খরস্রোতা কাঁকন নদীর বুকজুড়ে এখন শুধুই ফসলের মাঠ। নদীটি দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় ও ক্রমাগত পলিমাটি জমে এর নাব্য হারিয়ে সরু খালের রুপ ধারন করেছে।

স্থানীরা জানান, কাঁকন নদীকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠে রায়পুরা উপজেলার রায়পুরা বাজার ও শ্রীরামপুরের বিশাল হাট। নদীর বুক জুড়ে এখন ফসলের মাঠ। পুরো নদীটি কৃষকদের ধানী জমির দখলে। নদীর ৪.৭৫ কি. মি. অংশে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও এর চেয়েও কম পানি। বর্তমানে একটি সরু খাল ছাড়া কাঁকনের অস্থিত্ব বিলিন হওয়ার পথে। নদীর পাড়ে দালান গড়ে ওঠায় প্রতিটি ঘাটের অস্তিত প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এক সময় শ্রীরামপুর হাঁটকে কেন্দ্র করে শুক্র ও সোমবার নরসিংদী জেলাসহ রায়পুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকাযোগে মালা-মাল নিয়ে কেনা-কাটা করতে হাজার হাজার ক্রেতা ও বিক্রেতার আগমন ঘটত। প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হত এখানে। এলাকার অনেক শ্রমজীবি মানুষ এহাটে কাজ করতে পারত। কালের বির্বতনে নদীর পুরনো রুপ পাল্টে গেছে। কাঁকন নদীর নব্যাতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন নদী খননের ব্যবস্থার দাবি করেন অনেকে। স্থানীয় গোপাল চন্দ্র বর্মন জানান, হতভাগা কাঁকন নদীর পাশেই শ্রীরামপুর জেলে পাড়ায় আমার বাড়ি। এ নদীর পাড়ে তাঁর জন্ম, শৈশবে নদীর বুকে সাঁতার কেটেছি। ওই সময় শুষ্ক মৌসুমে নদীতে থাকত গলা পানি। নদীর পাড় ঘেঁষে কালিবাড়ি বটতলায় বসত মেলা। নদীর বুক জুড়ে ছিলো অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির মাছ। এখন যা দেখছি কিছুদিন পর আর হয়ত সরু খালটিও থাকবে না। উপজেলা আ.লীগ সাংস্কৃতি সম্পাদক লেখক কবি মহসিনুল খোন্দকার বলেন, ঐতিহ্যবাহী এতবড় নদীটি রাজনীতি নেতারা দলের নাম ভাগিয়ে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রায়পুরা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সাদিকুর রহমান সবুজ জানান, উপজেলার দুটি নদী খননের জন্য তিনি পানি সম্পাদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এরমধ্যে কাঁকন নদীর পাঁচ কিলোমিটার খনন ও উপজেলার চরআড়ালিয়ার মরা নদীর নামও রয়েছে।

 

"