রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল

পাম্পে বকেয়া ২১ লাখ অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ ২৪ দিন

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী

বকেয়া জ্বালানি তেলের বিল পরিশোধ না করায় ২৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে তেলের পাম্পে বাকি ১৪ লাখ ৩২ হাজার ২৫৬ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাকি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ২২০ টাকা। দুই অর্থবছরে মোট বাকি পড়েছে ২১ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা। তাই তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ কারণে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বন্ধ পড়ে আছে হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্স।

রাজবাড়ীর ১২ লাখ মানুষের প্রধান ভরসা জেলা সদর হাসপাতাল। এতে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র দুটি। সেই অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর ও ঢাকায় যেতে রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস ভাড়া নিতে হচ্ছে। জানতে চাইলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রশ্ন করেন, সচল থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ফরিদপুরের বাইরে যান না অ্যাম্বুলেন্স চালাকরা। তার পরেও এত টাকা বাকি পরে কি ভাবে?

রোগী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রতি কিলোমিটারের জন্য ভাড়া নেওয়া হয় মাত্র ১০ টাকা। সে অনুযায়ি রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া-আসায় ভাড়া ৬৬০ টাকা এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে গুরুতর রোগী বহন করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। তারপরেও ওইসব অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে ফরিদপুর পর্যন্ত ২ হাজার টাকা এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত ৭-৮ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু থাকলে গরীব রোগীরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন।

রামকান্তপুর ইউয়িন থেকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মো. ইব্রহিম মোল্লা জানান, তেলের সংকট দেখিয়ে ২০ দিন যাবৎ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দুটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত যেন এর সমাধান করে অ্যাম্বুলেন্স দুটি পূণরায় চালু করা হয়। প্রায় একই কথা বলেন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর ভাই মতিন মোল্লা। একাধিক রোগীর স্বজন জানাণ, দিনের বেলায় হয়তো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে রোগীকে ফরিদপুর-ঢাকা নেওয়া যায়, কিন্তু রাত একটু বেশি হলে আর কোন ব্যবস্থা নেই। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যখন মানুষ ভাড়া করে তখনই তো তার ভাড়া পরিশোধ করা হয়। কিন্তু তেলের টাকা বাকি পড়ে কিভাবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মাইনউদ্দিন মোল্লা বলেন, তেলের টাকা বাকি পড়ায় পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না। তাই কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ রেখেছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখে আমার নিজেরও খারাপ লাগছে।

সদর হাসপাতালের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোফাজ্জেল হোসেন জানান, গত দুই অর্থ বছরে পাম্পে মোট বাকি পড়েছে ২১ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা। এ বিষয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থ বিভাগে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তেলের পাম্পে অনুরোধ করে বলা হয়ে ছিল যেন জনস্বার্থে তেল সরবরাহ চালু রাখেন। তা সত্ত্বেও পাম্প থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি বন্ধ আছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাশর্বর্তী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও ঢাকায় অনেক রোগী রেফার করা হয়ে থাকে। এ জন্য অন্যান্য জেলার তুলনায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স বেশি চলাচল করে। এতে তেলের পরিমাণও বেশি লাগে। পাম্পে তেলের টাকা বাকি পড়ায় তারা তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই আমরা এর সমাধান করতে পারবো বলে আশা করছি।

১৯ মার্চ স্বাস্থ্য বিয়ষক মাসিক মিটিং থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মিটিংয়ে রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি মহোদয় থাকবেন, স্যারের কাছে অ্যাম্বুলন্সে বিষয়টিও তুলে ধরা হবে। হয়তো এমপি মহোদয় একটু নজর দিলেই আবার রাজবাড়ীতে অ্যাম্বুলেন্স চালু করতে পারবো।

জানতে চাইলে, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলী আহসান তুহিন জানান, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকার কারণে জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

"