পানির অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে হাওর অঞ্চলের কৃষিজমি

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

হিমেল আহমেদ, নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

বোর মৌসুমে কিশোরগঞ্জের হাওড় এলাকায় পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অনাবাদি হয়ে পড়ছে অনেক কৃষি জমি। আবার যেসব জমিতে বোর চাষ করা হয়েছে সেগুলোতে সেচ প্রকল্প একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের। ফলে কৃষিতে সেচ খরচ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধানের উৎপাদিত খরচ ও বাজার মূল্য নিয়ে প্রায়ই হতাশ হয় কৃষকেরা।

খাদ্য উৎপাদনে কয়েকটি জেলার মধ্যে অন্যতম কিশোরগঞ্জ। বর্ষার শেষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কৃষকেরা হাওড়ে ছয়মাসের জন্য ঝিরাতি হিসেবে বসবাস করে। এসব কৃষকেরা, বিভিন্ন উপজেলার হাওড়গুলোতে প্রকৃতির দান জলাশয় থেকে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে অনাবৃষ্টি, খরার সময় কৃষকরা বোর মৌসুমে ফসলি জমিতে স্থানীয় প্রযুক্তি উরি, বা কোন দিয়ে সেচ দিতে দেখা যেত। এখন তা আর দেখা যায় না। বর্তমানে হাওড়গুলোতে অগভীর নলকূপ ও চড়ামূল্যে বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে বোর জমিতে পানি দিতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে বোর চাষে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একশ্রেণির মুনাফা লোভী ব্যাক্তিরা বিভিন্ন জেলে সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে হাওড়ের ছোট-বড় জলাশয় সরকার থেকে ইজারা নিচ্ছে। এসব ব্যাক্তিরা নিজেদের স্বার্থে বর্ষাকালে খাল-বিল, ছোট ছোট হাওড়ে বাঁধ ও নেটজাল দিয়ে মাছ চাষ করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে ইজারা নীতিমালা ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে খাল-বিল, জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরে। এর ফলে হাওড়গুলো পানি শূন্য হয়ে পড়ে। যে কারণেই কৃষকেরা পানির সংস্থান হিসেবে বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের আওতায় জমিতে সেচের পানি নিতে বাধ্য থাকে।

নিকলী উপজেলার কৃষক মো. নুরুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, মো. সৈয়দ হোসেন, দিদারুল আলম জানান, অষ্ট্রগ্রামের হাওড়গুলোতে আমাদের প্রায় ৮০ একর বোর জমি থাকলেও সেচের অভাবে ও যোগাযোগের কারণে বিগত ৮ বছর যাবত অনাবাদি রাখতে বাধ্য হয়েছি।

নিকলী উপজেলার বরুলিয়া হাওড়ের কৃষকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে বরুলিয়া খালটি একাধিবার খনন করলেও পর্যাপ্ত গভীর হয়নি, যেকারণে বর্ষার আগে এখানে পানি পাওয়া যায় না। ফলে সেচের অভাবে প্রতিবছর ৫০০-৬০০ একর ফসলি জমি এ হাওড়ে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। প্রতিবছর নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠাইমন ও অষ্ট্রগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার একর বোর জমি অনাবাদি থাকে বলে জানায় স্থানীয় কৃষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে জমি অনাবাদি থাকে অষ্ট্রগ্রাম উপজেলায় যার পরিমাণ দিন দিন উল্লেখ্য যোগ্যহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও হাওড়ের বিভিন্ন খাল বিল দ্রুত খনন না করলে কৃষি প্রধান এলাকায় কৃষি বিপর্যস্ত হবে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জেলার ইটনা, মিঠাইমন, অষ্ট্রগ্রাম, বাজিতপুর, নিকলী উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে সেচ ও যোগাযোগের অভাবে প্রতিবছরই বিশাল পরিমাণ জমি অনাবাদি থেকে যায়। হাওড়ে খালগুলো খনন কাজে বিভিন্ন সংস্থা ও দফতর কাজ করে আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

 

"