বর্জ্যরে নগরী হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ

নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আব্দুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে (নাসিক) বর্জ্যরে কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে মাঠ ও ফাঁকা জায়গা। নগরীতে সৃষ্ট দৈনিক ৩২০ টন বর্জ্যের অধিকাংশই আবাসিক বর্জ্য। এছাড়াও শিল্পকারখানা, হাসপাতালসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যও রয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের দুইপাশে বিভিন্ন স্থানে জমছে ময়লার স্তুপ। ‘এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ’ সাইনবোর্ড লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে সড়ক ও জনপদ (সওজ)। এসব বর্জ্যরে রোগজীবানু ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছে নগরবাসী।

নগরীতে উৎপন্ন হওয়া বিপুল পরিমাণ বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। ময়লা ফেলার স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলেও মামলা জনিত কারণে ময়লা ফেলার স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ। ময়লা অপসারণের কোন ব্যবস্থাপনা না থাকলেও লিংক রোডের দুইপাশে বিভিন্ন স্থানে জমছে ময়লার স্তুপ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আচ্ছন্ন হচ্ছে নগরীর দুটি বিনোদন স্পটÑখান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম ও নম পার্ক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি তোলারাম কলেজ সংলগ্ন ডাক বাংলার কাছাকাছি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হকার্স মার্কেটের সমানে, খানপুর হাসপাতাল যাবার পথে নবাব সলিমুলাহ রোড, মেট্টো সিনেমা হলের উল্টো পাশে, কালীর বাজার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন প্রবেশ মুখে, কালীবাজার ৪৯ নং সিরাজউদ্দৌলাহ রোডের সামনে, ২ নং গেট ব্রাহ্মণ সমাজ মন্দির মার্কেটের সামনে, ২২নং বঙ্গবন্ধু রোড জনতা সুপার মার্কেটের সামনে, গুলশান সিনেমা হলের সামনে, উকিলপাড়া জামে মসজিদের সামনে, উকিলপাড়া গ্রামিন মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে, বঙ্গবন্ধু রোড এইচ.আর প্লাজার সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ রয়েছে। এসব ময়লা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে ছড়িয়ে পড়ে সড়কে।

খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এর পূর্ব পাশের গেট বরাবর ময়লার পরিমান দিনদিন বৃদ্ধি হচ্ছে। কোন ধরণের ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্টেডিয়ামের পাশের নালাটি ভরাট হতে শুরু করছে। ময়লার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে রাখা হয়েছে। লামাপাড়া সড়কের পূর্বদিকে ময়লা আবর্জনার পাহাড় তৈরি হচ্ছে। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পথচারী ও যাত্রীদের নাকে কাপড় চেপে রাখতে হয়।

লিংকরোডের পাশে স্থান দুটি শিশুদের, খেলোয়ারদের বিনোদনের জায়গা হলেও ময়লা আবর্জনায় দূষিত হয়ে পড়ছে। এছাড়াও স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবর্জনার স্তুপ সকলের মাথা ব্যাথার কারণ হলেও প্রশাসন থেকে নেই কোন ধরণের ব্যবস্থা। সড়কের মধ্যে ময়লা চলে আসলে ভেঁকু দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও ময়লা ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা আলম বলেন, মানুষ ময়লার এলাকা বলে জালকুড়িকে। আমাদের কি নিজের এলাকা নিয়ে এমন কথা শুনতে ভাল লাগে নাকি? আর ময়লার দুর্গন্ধ, ময়লা পোড়া ধোয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর বিষয়গুলো সবাই জানে। কিন্তু ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা নেয় না। ময়লা রাস্তায়ও ফেলে যায়। পরে ভেঁকু দিয়ে ময়লা রাস্তা থেকে সরানো হয়।

লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাম বলেন, আমাদের এলাকার এইখানে ময়লা ফেলা নিষেধ। এক বছর আগে এখানে সিটি করপোরেশনের মানুষ ময়লা ফেলতে আসলে সুইপারের সঙ্গে মারামারিও হইছে। পরে ময়লা ফেলা নিষেধ করা হলেও মাঝরাতে আইসা ময়লা ফেইলা যায়।

ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, ইউএনও ময়লা ফেলার জন্য যে জায়গা দিয়েছিল, সেই জায়গার এলাকাবাসী মামলা করছে। এ কারণে ওইখানে ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ করে দিছে। ময়লা যারা নেয় তারাই ভাল জানে ময়লা কোথায় ফেলে। ফলে আনাচে কানাচে ময়লা ফেলছে।

কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ইউনিয়নের ময়লা ফেলার জন্য ফতুল্লা রেলস্টেশনের পাশে জাবেদুল্লা ফ্যাক্টরির পিছনে ময়লা ফেলার কথা ছিল। কিন্তু এই জায়গার এলাকাবাসী মামলা করে বন্ধ করে দিছে। এখন সংগ্রাহকেরা যেখানে সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই ময়লা বিক্ষিপ্তভাবে ফেলছে। সওজ নারায়ণগঞ্জের বিভাগীয় প্রকৌশলী আলীউল হোসেন বলেন, আমরা নোটিশ বোর্ড টানিয়ে দিয়েছি সচেতনতার জন্য। এর চেয়ে বেশি আমরা কি করতে পারি? প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সদর ইউএনও হোসনে আরা বেগম বলেন, ময়লা ফেলার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হলেও মামলার কারনে সেখানে ময়লা ফেলা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব মামলা নিষ্পত্তি করে ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করব। নসিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ বলেন, অস্থায়ীভাবে আর বেশি দিন ময়লা ফেলা হবে না। মামলার নিষ্পত্তি হলেই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

 

"