বদরগঞ্জের তিস্তা নদী এখন ফসলের মাঠ

‘এরই মধ্যে বদরগঞ্জের দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর ঘাট এলাকায় চিকলী নদীর ১১ হাজার মিটার পুনঃখননের কাজ হচ্ছে

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নুরুন্নবী নুরু, বদরগঞ্জ (রংপুর)

চারদিকে সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোলা দিচ্ছে ধানের চারা গাছগুলো। দুর থেকে দেখে যে কেউ মনে করবে এ বুঝি এক ফসলের মাঠ। না এটি কোন ফসলের মাঠের দৃশ্য নয়। এটি হল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শুকিয়ে যাওয়া যমুনেশ^রী (মরা তিস্তা) নদীর বুকে চাষাবাদের চিত্র। কাছে গিয়ে আরও দেখা যায় শুকিয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর উপর দেয়া ব্রীজটি যেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে গত সোমবার সকালে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বের হলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীর বুকে এ চাষাবাদের চিত্রই চোখে পড়ে।

কথা হয় নদীতে চাষাবাদ করা কৃষক নুরুজ্জামানের সাথে। তিনি জানান, আমার নিজস্ব কোন জমি নেই তাই শুকিয়ে যাওয়া নদীতে ধান চাষ করেছি।

তিনি আরও জানান, নদীতে ধান চাষ করতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১ মাস পূর্বে প্রস্তুতি নিতে হয়। কারন বন্যা হলেই চারা গাছগুলো পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

নদী তীরবর্তি এলাকার কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। অন্যের জমিতে বর্গা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এখানে আমরা ধান চাষ করেছি। মৌসুম শেষে যদি কিছু ধান পাই তাহলে আর যাই হোক পেটের ভাতটুকুতো হবে।

বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক রায় জানান, নদীর তীরবর্তী গরিব লোকজন শুকিয়ে যাওয়া নদীতে ধান চাষ করেছে বলে শুনেছি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নদী খনন না করার কারনে পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারনেই হয়ত অনেকে নদীতে ধানের চারা রোপন করছে।

তিনি আরও বলেন, অবশ্যই নদীগুলোকে খননের মাধ্যমে তার পূর্বের অবস্থায় ফেরানো দরকার।

বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাশেদুল হক জানান, সরকার শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোকে খননের মাধ্যমে তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে খননের কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বদরগঞ্জের দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুরঘাট এলাকায় চিকলী নদীর ১১ হাজার মিটার পুনঃখননের কাজ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে যমুনেশ্বরী ও তিস্তা নদী খনন করা হবে।

 

"