নওগাঁয় বাড়ছে কিডনি রোগী ঝালকাঠিতে নেই চিকিৎসা

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

সবুজ হোসেন, নওগাঁ ও রাজু খান, ঝালকাঠি

আন্তর্জাতিক কিডনি ফাউন্ডেশন ফেডারেশন এবং আন্তর্জাতিক নেফরোলজি সোসাইটির উদ্যোগে ২০০৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর মার্চ মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃহস্পতিবার কিডনি দিবস পালিত হচ্ছে। সে হিসেবে এ বছর ১৩ মার্চ পালিত হচ্ছে এই দিবস।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর কিডনি রোগীদেরে ভরসা আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের আগস্টে প্রয়াত জননেতা আবদুল জলিল মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সৌজনে দুই শয্যাবিশিষ্ট ‘আবদুল জলিল হেমো ডায়ালাইসিস সেন্টার’ চালু করেন। এরপর ২০১৩ সালে আরো তিনটি মেশিন বাড়িয়ে মোট পাঁচটি মেশিনে দিয়ে অদ্যাবধি ডায়ালাইসিস সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ডায়ালাইসিস চালুর পর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ হাজার ৪২১ রোগীসেবা নিয়েছেন। গত ৮ বছরে হাসপাতালে কিনডি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি যন্ত্রপাতি। জেলার ১১টি উপজেলা ছাড়াও বগুড়া, জয়পুরহাট জেলা থেকেও কিনডি রোগী সেবা নিয়ে থাকেন বলে জানান রোগীর স্বাজনরা।

ডায়ালাইসিস সেন্টারে দেখভালকারী হায়াত মাহুমদ বলেন, ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এক শিফটে পাঁচটি মেশিনের সাহায্যে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে মেশিনের সংখ্যা কম হওয়ায় ডায়ালাইসিস সেন্টারে তালিকাভুক্ত রোগীদের সিরিয়াল অনুসরণ করতে হয়। তবে কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার এবং সেবিকারা চিকিৎসা দিচ্ছেন।

নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ী মহল্লার বাসিন্দা গৃহবধূ সোহানী কাদের সানজু বলেন, গত চার বছর আগে ঘাড়ে প্রচুর ব্যথা হতো। প্রথমে বগুড়াতে ডায়ালাইসিস করা হয়। এরপর গত সাড়ে তিন বছর থেকে সদর হাসপাতালে সপ্তাহে দুবার চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই ধরনের কথা বলেন, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের সূচরিতা দেবনাথ। তিনি বলেন, ভারতে গিয়ে ধরা পড়ে কিডনির সমস্যা। সেখানে ৩২ দিন চিকিৎসা শেষে ফিরে আসি। এতে খরচ হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। এরপর সপ্তাহে দুবার নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টারে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। একই কথা বলেন শহরের হাট-নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা বয়জ্যেষ্ঠ গোলাম রাব্বানী।

নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুনির আলী আকন্দ বলেন, নওগাঁ ও বাইরের জেলার যে পরিমাণ রোগী আছেন তার তুলনায় মেশিনের সংখ্যা কম। ডায়ালাইসিস সেন্টারে কোন কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের দিয়ে কিডনি রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ‘হেপাটাইটিস বি পজেটিভ’ মেশিনের জরুরি প্রয়োজন। এ মেশিন থাকলে রোগীদের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি কালেক্টরেট কর্মচারী মো. নজরুল ইসলাম ও খাদিজা বেগম দম্পতির ১ পুত্র এবং ৩ কন্যা। বড় কন্যা কামরুন্নেছা খানম একজন চিকিৎসক। ২০১৭ সালের এপ্রিলে তার মা খাদিজা বেগম শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ হতে থাকেন। এর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও লক্ষণ দেখে রোগ বোঝা যাচ্ছিল না। এর পর প্রথমে বরিশালে ও পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কিডনির চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। তবে দুই মাসের ছুটিতে ঝালকাঠিতে ফেরার পর মারা যান তিনি। স্ত্রীকে হারানোর পর মো. নজরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে বরিশাল বিভাগে কিডনি রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে লিখেন।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রকোপ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সরকারি পর্যায়ে এ রোগের চিকিৎসার জন্য তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যা কিছু হচ্ছে তা কেবলমাত্র বেশির ভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক। শেবাচিমের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে লাখ লাখ রোগীর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। অথচ এখানে কিডনি রোগীর জন্য কোনো ইউনিটই নেই। এমনকি একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও পদায়ন নেই। ঢাকার প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে গেলে মধ্যবিত্তকেও নিঃস্ব হতে হবে।

বরিশাল বিভাগে কিডনি রোগের চিকিৎসার সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যবস্থাই নেই জানিয়ে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে আড়াইশ’ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এর অনুকূলে যে চাহিদা দিয়েছি তাতে কিডনি চিকিৎসার জন্য একজন বিশেষজ্ঞের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে আমাদের জনবল সরবরাহ করা হলে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে আর ঢাকা যেতে হবে না।

 

"