ঠাকুরগাঁওয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাসপাইপ বিস্ফোরণ

৪০ একর জমির ফসল নষ্ট, অসুস্থ মানুষ

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

শাকিল আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে প্রায় ৪০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। উপজেলার উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামে অবস্থিত আমানত কোল্ডস্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের এই বিষাক্ত গ্যাসে প্রভাব এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আক্চা ইউনিয়নের উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা এমন অভিযোগ করেন। এর আগে গত সোমবার রাত ২টার দিকে আমানত কোল্ডস্টোরেজে বিস্ফোরণ ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামের অবস্থিত আমানত কোল্ডস্টোরেজ। এই স্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪০ এক জমির মরিচ, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত, লিচু ও আম বাগানের পাতাগুলো ঝলসে গেছে অ্যামোনিয়া গ্যাসে। এছাড়াও অসুস্থ্য হয়েছে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ শিশুরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন গ্রামবাসী। গ্রামবাসী ক্ষতিপুরণ দাবি করে কোল্ডষ্টোরেজের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাতে আমানত কোল্ডস্টোরেজের ভেতরে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পাইপ ফেটে যায়। এরপর মুহুর্তের মধ্যে নির্গত অ্যামোনিয়া গ্যাস গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে গ্রামের লোকজন এবং ৪০ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত জহল রায় বলেন, কোল্ডস্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে আমার আড়াই বিঘা (২৫০ শতক) জমির মিষ্টি কুমড়া ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে আমার ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরেক ক্ষতিগ্রস্ত যদুরাম বর্মন বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাসে আমার ১ একর (১০০ শতক) জমির মরিচ ক্ষেত ঝলসে গেছে; এতে আমার ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অরুন রায়, ধনি চরম, ভবেশ চন্দ্র রায়, আব্দুল লতিফ বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে গ্রামের প্রায় ৪০ একর জমি (৪ হাজার শতক) জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষেত ও বিভিন্ন বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

গৃহবধু শ্রী মণি রায় বলেন, হঠাৎ করে রাতে গ্রামে কোল্ডস্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে নাক-মুখ জ্বালাপোড়া করে; পাশাপাশি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই গ্যাসের কারণে গ্রামের অসংখ্য মানুষ অসুস্থ্য হয়েছেন।

সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম বলেন, আমানত কোল্ডস্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাস উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৪০ একর জমির ফসল ও বাগান নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই এসে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল আমিন খান বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামে অসংখ্য মানুষ অসুস্থ্য হয়েছে। আমরা ৭০ জন নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছি। এরমধ্যে ৬ জনের অবস্থায় গুরুত্বর হওয়ায় তাদেরকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আক্চা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন বলেন, কোল্ডস্টোরেজের অ্যামোনিয়া গ্যাসে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপুরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আমানত কোল্ডস্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। কৃষি অফিসার মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছেন। তালিকা তৈরি হলে জানা যাবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পরিমাণ নির্ধারন হওয়ার পর আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করব।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঘটনাস্থল মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে; সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করার জন্য একজন কৃষি অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"