স্লোপে মাটির বদলে লোনাপানি মিশ্রিত বালি

কলাপাড়ায় জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙন রোধে বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা ও সাগরের অব্যাহত ভাঙন রোধে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শুরু হয়েছে বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। কিন্তু কাজের শুরুতেই বেড়িবাঁধের স্লোপে মাটির বদলে দেওয়া হচ্ছে লোনা পানি মিশ্রিত বালু। প্রকল্প কাজ শুরুতে ভাঙন কবলিত মানুষ অশ্বান্বিত হলেও অনিয়মের ফলে এখন পড়েছেন উৎকণ্ঠায়।

পানি উন্নয় বোর্ড (পাউেেবা) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪৮ নম্বর পোল্ডারে সাগরঘেঁষা লতাচাপলী, ধুলাসার, কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। কুয়াকাটার ভাঙন রোধসহ নগরীকে পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় করতে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ করছে চায়নার চংচিং ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন (সিকো)।

এদিকে কৃষিকাজের সুবিধার্থে প্রকল্পের আওতায় তিনটি স্লুইস মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে নির্মিত হচ্ছে আরও আটটি স্লুইস। আশাখালী পয়েন্টের স্লূইস নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। শেষের পথে ফাঁসিপাড়া স্লূইসের নির্মাণ কাজও। সাড়ে ২৪ ফুট উচ্চতায় হচ্ছে ২২ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ। পর্যটকের বসার জন্য সিসি ব্লক প্লেসিং করে বেঞ্চি করা হবে। এসব কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মোশাররফ মোল্লা নামে এক স্থানীয় প্রকল্পে মাটি সরবরাহ করছেন। বাঁধের নিচের স্লোপ থেকে টপ পর্যন্ত শুকনো মাটি দিয়ে কাজ করার নিয়ম। কিন্তু সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাতের আধাঁরে লেম্বুর চর এলাকায় জোমাদ্দার বাড়ির কাছে প্রায় ৫০০ মিটার বাঁধে বালু দিয়ে ভরে দিয়েছেন মাটি সরবরাহকারী মোশাররফ মোল্লা। এতে স্থানীয়রা বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এর একদিন পরে বালু অপসারণের কথা বলে ফের কাজ শুরু হয়। বালু অপসারণে বাধ্য হয়। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা ছবি তুলতে গেলে তাদেরও বাঁধা দেয়া হয়।

স্থানীয় আলী হোসেন জোমাদ্দার জানান, পশ্চিম খাজুরা এলাকায় বাঁধের প্রায় ৪৫০ ফুট দীর্ঘ, ১০ ফুট প্রস্থ বাঁধের স্লোপে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। রাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় সুবিধাভোগী চক্র এ র্নিমাণ কাজ করে। কৃষক মিলন ও জসিম জানান, বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে তারা বাঁধা দেয়। এনিয়ে কুয়াকাটা পৌর মেয়রের ভাই মোশাররফ মোল্লার সঙ্গে তাদের বাকবিত-া হলে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে মোশারফ মোল্লার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রকল্পের পরামর্শক পাউবোর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী দিদারুল আলম জানান, বালু দিয়ে ঢেউয়ের ঝাপটা ঠেকানোর কাজ করা হয়েছে। মাটির বদলে বালু ভরাটের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তবে মোশাররফ মোল্লা কে? কেন তিনি এলাকাবাসীকে ধমকেছেন এ নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি এ পরামর্শক।

 

"