নবীনগর পৌরসভায় আবর্জনার স্তূপ

সড়কের পাশে ফেলা আবর্জনা মিশছে তিতাসে

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে একই স্থানে ময়লা ফেলছে পৌর কর্তৃপক্ষ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছাত্রছাত্রী, পথচারী ও যাত্রীরা

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

খান জাহান আলী চৌধুরী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্র্র্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের প্রবেশ মুখে এই আবর্জনার কারণে এলাকাবাসির যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। আবর্জনার বিষাক্ত বর্জ্য গিয়ে মিশছে তিতাস নদীতে। গত দেড় দশক ধরে ৭ ওয়ার্ডের পৌর কর্তৃপক্ষ এভাবে প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলছে। অভিযোগ আছে, এমন জনদুর্ভোগের পরও পৌর কর্তৃপক্ষ ও সচেতন নাগরিকরা রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বৃষ্টির সময় আবর্জনার পঁচা পানি পথচারীদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। এতে দুর্গন্ধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ফলে এই পথে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজারের মাছ, মুরগির পঁচা নাড়িভুড়ি, নষ্ট সবজি, বাসাবাড়ির সবধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে। এতে যাত্রী সাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পথ চলা দায়। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ নবীনগর সদরের মাঝিকাড়া ব্রিজের পূর্বপাশে তিতাস পাড়ে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। উন্মুক্ত বর্জ্য পরিবেশ নষ্ট করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। নবীনগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নবীনগর পৌরসভা ‘খ’ শ্রেণি থেকে বর্তমানে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এখনও যথাযথ উন্নয়নে পৌঁছাতে পারেনি নবীনগর পৌর কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে নবীনগর পৌর এলাকার কনিকাড়া ব্রিজ সংলগ্ন ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ৩৬৫ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এবিষয়ে নবীনগরে খাদ্য গুদামের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আবর্জনার দুর্গন্ধের জন্য গুদামে নৌকা থেকে মালামাল উঠানামা করার একমাত্র ঘাটটিতে শ্রমিকরা কাজ করতে পারে না। গুদামের আগের কর্মকর্তা লিখিতভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল। আমার সময়ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে আবর্জনার দুর্গন্ধের ব্যাপারটি জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কাজ হয়নি।’ মাঝিকাড়া বাজারের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, ‘পৌরসভার ময়লা-আবর্জনার এই দুর্গন্ধে দোকানে বইসা ব্যবসা করতে পারতেছি না। এতো বাজে দুর্গন্ধের কারণে দোকানে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমার মতো সকল ব্যবসায়ীদের একই সমস্যা দুর্গন্ধ। পৌর মেয়র অচিরেই যদি স্থানান্তর না করায় দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বাড়বে।’

মাঝিকাড়া গ্রামের অটোরিকসা চালক রমজান মিয়া বলেন, ‘ময়লার খারাপ গন্ধে আমরা অটো চালাইতে পারি না। আমরা গরিব মানুষ, মুখ খুইল্লা মেয়র, কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো কথা কইবার পারি না। এই ময়লা সড়ানো খুবই দরকার। এখানের ময়লা পানি পাশের নদীতে যাওয়ায় যারা ঘাটলায় গোসল করে অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু হইতাছে।’

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নবীনগর পৌরসভার মেয়র মাইনুদ্দিন আহম্মেদ মাইনু বলেন, ‘পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় মাঝিকাড়া সড়কের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ইতিমধ্যে ১৩ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। আর এক বছর এলাকাবাসি এই কষ্ট পোহাতে হবে। ময়লার ডাস্টবিন ও ওয়াটার সাপ্লাই বাবদ সরকার থেকে সাড়ে নয় কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছি। জায়গা অধিগ্রহনের কাজ চলছে, অচিরে জনগণের দূর্ভোগ শেষ হবে।’

 

"