টোব্যাকো কোম্পানির লোভনীয় অফার

গোয়ালন্দে বাড়ছে তামাক চাষ

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

টোব্যাকো কোম্পানির লোভনীয় অফারে তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন গোয়ালন্দ উপজেলার চাষিরা। প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাক চাষ। তামাক চাষ করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকের ভালো পরামর্শ দূরের কথা, কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না। অফিসে বসেই জরিপ করে থাকেন।

জেলা বাতায়ন সূত্রে জানা যায়, ১২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গোয়ালন্দ উপজেলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৫৭ জনের বসবাস। সে হিসেবে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে বসবাসের ঘনত্ব ৭৮৭ জন। এই জনঘনত্বপূর্ণ এলাকায়ই চলছে তামাক চাষ।

কৃষকদের নানা রকম পরামর্শদানে নিয়োজিত কৃষি অফিস ও মাঠকর্মীরা। কিন্তু মাঠ ঘুরে মেলে না তাদের দেখা। কৃষি অফিসের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন টোব্যাকো কোম্পানির লোকজন অফার নিয়ে তৎপর। প্রতিনিয়ত বাড়িতে বাড়িতে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। চাষ করার আগে সার, কীটনাশক দিচ্ছেন। তামাক চাষ করার পর বিক্রির করার নিশ্চয়তাও দিচ্ছেন।

উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথ জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার যে মাঠে এক সময় ধান, গম, ভুট্টাসহ নানা প্রকার সবজি আবাদ হতো সেখানে এখন তামাক আবাদ হচ্ছে। আবার অনেকে কুফল বুঝতে পেরে তামাক আবাদ ছেড়েও দিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ গরির চাষি তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। বিভিন্ন টোব্যাকো কোম্পানির কূটকৌশলের কাছে কৃষকরা হেরে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে করানো হচ্ছে তামাক চাষ। এতে তামাক চাষীসহ তাদের পরিবারের শিশুরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, অসুস্থ হচ্ছে অনেকেই।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের উপজেলায় বেশি তামাক আবাদ হয়েছে। তবে গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকার মধ্যে শুধু উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মন্ডলপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি তামাক আবাদ হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ৩ হেক্টর, পৌরসভা ২ হেক্টর, ছোটভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে শূন্য এবং উজান ইউনিয়নে সাড়ে ১৯ হেক্টর জমিতে তামাক আবাদ হয়েছে। এই উপজেলায় মোট ৭৪ জন কৃষক তামাক আবাদ করছে। তবে, প্রতি বছর ১-২ জন তামাক আবাদ বন্ধ করলেও অনেকে আবাদে আগ্রহ হচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলার হাবিল মন্ডলপাড়া এলাকার তামাকচাষিরা বলেন, তামাক আবাদে নিশ্চয়তা আছে। কোম্পানিগুলো সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখে। বিক্রির নিশ্চয়তা আছে। কিন্ত অন্য ফসলের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবাদ বেশি হলেই বাজারে কোনো মূল্য থাকে না। সেই দিক থেকে তামাক আবাদে কৃষক মূল্যের ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্যে পায়। উজানচর ইউনিয়নের মেম্বার নিখিল রায় জানান, গরিব কৃষক মূল্য বেশি পাওয়ার আশায় তামাক আবাদ করে থাকে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তামাকচাষিদের পরামর্শ দিলে হয়তো তামাক আবাদ কমে আসবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অফিসার ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও যে এলাকায় তামাক চাষ হয় তার আশপাশের মানুষেরও শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

গোয়ালন্দ কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মো. মোহায়মেন আক্তার জানান, গত বছরের চেয়ে এবার গোয়ালন্দ উপজেলায় তামাক আবাদ বেশি হয়েছে। ‘ক্ষতিকর তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার জন্য মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়োমিত কাজ করে যাচ্ছেন। তারা কৃষকদের এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝাচ্ছেন। যাতে তারা তামাক চাষবাদ দিয়ে কৃষিপণ্য চাষে ফিরে আসেন।’ তিনি আরো বলেন, তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরতা কমে যায়।

 

"