দেড় শতাধিক পরিবারের জন্য দেড় ফিট রাস্তা

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

আরিফ খাঁন, বেড়া (পাবনা)
ama ami

এক দিকে দেড় ফুট ও অপর দিকে তারও কম। এ অবস্থা পাবনার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের হরিরাথপুর গ্রামের ‘পুকুরচালাপাড়া’ রাস্তার। জায়গা দখল করে পাশাপাশি গুদাম ও অফিস নির্মাণের ফলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী এই সংকীর্ণ রাস্তা দিয়েই বুক-পিঠ ঠেলে যাতায়াত করেন ইউনিয়নের হরিরাথপুর গ্রামের দেড় শতাধিক সংঘ্যালঘু পরিবার। বন্দি হয়ে পড়েছেন ওইসব পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ। সাবেক সংসদ সদস্যের (এমপি) দেওয়া প্রতিশ্রুতিও কোনো কাজ হয়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাস্তার দুই পাশের জমির মালিকরা অতিরিক্ত জমি দখল করায় এই দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে জায়গা ছাড়তে নারাজ জমির মালিকরা।

পুকুরচালাপাড়ার দেড় শতাধিক পরিবারের পাঁচ শতাধিক সদস্য যাতায়াতের রাস্তা দিয়ে ভ্যান চলার উপযোগিতা নেই। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যেতে পারেন না তারা। এলাকাবাসী জানান, কোনো মানুষ অসুস্থ হলে বা মারা গেলেও কমপক্ষে তিন-চারজনে মাথা নিয়ে পাড়া থেকে বের করতে হয়। এখন সেই অবস্থাও নেই। চিপা দিয়ে চলতে গিয়ে দুই ঘরের বেড়ায় বেঁধে ছিড়ে যায় জামা। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তাদের অভিযোগ, স্থানীয়রা সবাই বিষয়টি জানলেও মূলত দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

পুকুরচালাপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা তারাপদ দাস বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে দেখেছি এখানে ১০ ফিটের একটি রাস্তা ছিল, কিন্তু পর্যায়ক্রমে প্রভাবশালীরা সেই রাস্তা দখলে নিয়ে কয়েকটি আধা পাকা ও পাকা ইমারত নির্মাণ করেন। ১০০ ফিট লম্বা রাস্তা চওড়ায় দেড় ফিটে এসে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, ওদের জায়গা তো দুই শতাংশ করে, কিন্তু দখলে নিয়ে আছে ছয়-সাত শতাংশ। একই কথা জানিয়ে মানিক মিয়া, রিপন কুন্ডু রবিন্দ্রনাথ ঘোষসহ কয়েকজন বলেন, গত ১৫-২০ বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে আমরা চরম দুর্ভোগে চলাচল করছি। এর আগে পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি আজিজুল হক (আরজু) আমাদের আশ্বাস দিলেও কোনো কাজে আসেনি।

জমির মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, পেছনে যারা থাকে ওদের তো নিজের জায়গা না, ওরা সবাই অন্যের জায়গায় থাকে। তবে যাতায়াতের বিষয়টা আমাকে অনেক আগেই বলেছে, কিন্তু এখন তা সম্ভব না, পুনরায় যদি ঘর নির্মাণ করি তবে একটু জায়গা রেখে দেব। জমির আরেক জমির মালিক আবদুুল আউয়াল বলেন, ‘এই রাস্তার বিষয়ে ওরা সবাই সাবেক এমপি সাহেবের কাছে বলে ছিল, তার কথা মতোই আধা ফিট জায়গা রেখেই ঘর তুলেছি। পাশের জায়গার মালিক যদি জায়গা না রাখে তাহলে তো আমার কিছু করার নেই!’

স্থানীয় ভূমি অফিসে তল্লাশি করে জানা যায়, নজরুল ইসলাম এক (১০৮/১১৪ নম্বর) দাগে ০.০৩ শতাংশ এবং অপর (২১৫/১৯১ নম্বর) দাগে ০.১০ শতাংশসহ মোট ০.১৩ শতাংশ জমি আছে। অপর দিকে মালিক আবদুল আউয়াল এক (২১৫/১৯১ নম্বর) দাগে ০.০২ শতাংশ এবং অপর (২১৬/১৯০ নম্বর) দাগে ০.০০৫ শতাংশসহ মোট ০.১০৫ জমি রয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, এরা তাদের প্রাপ্য জায়গার চেয়েও একটু বেশি দখলে আছে।

জানতে চাইলে ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর কোরবান আলী বলেন, যাদের জমি তারা যদি রাস্তায় জায়গা না দেয় তাহলে আমাদের তো কিছু করার নেই। এ বিষয়ে পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান কে এম রফিকুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘ওই এলাকায় বসবাস করা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর সত্যিই চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। যা আছে তা দেড় ফিটের বেশি হবে না। কমপক্ষে চার ফিট চওড়া রাস্তা হলে ভালো হয়। যাদের ঘর আছে তাদের ভাঙার জন্য সময় দিতে হবে। অচিরেই এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করা হবে।’

"